বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা

এই লেখাটি 99 বার পঠিত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহু বছর ধরেই একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। ভর্তুকি দিয়ে কোনো রকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। দেশের পতাকাবাহী এই সংস্থাটির এমন দুরবস্থার জন্য মূলত দায়ী করা হয় দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে। দেদার লুটপাটের কারণে একসময় সংস্থাটির জনখ্যাতি হয়েছিল ‘মামা-ভাগিনার প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে। অভিযোগ উঠেছিল, বাংলাদেশের ধোলাইখালের মতো বিদেশের পুরনো যন্ত্রাংশের বাজার থেকে যন্ত্রাংশ কিনে এনে বিমানের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। সেই অবস্থা কাটিয়ে গত কয়েক বছরে বিমান কিছুটা এগোতে পারলেও লোকসানি প্রতিষ্ঠানের তকমা সরাতে পারেনি। এ অবস্থায় বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অধীনে সংস্থাটিতে বড় ধরনের সংস্কার করা হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো আবার চালু করার পাশাপাশি নতুন নতুন রুট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বহরে নতুন বিমান যোগ করা হবে। এতে নিশ্চয়ই বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। কিন্তু তাতে সংস্থাটি লাভজনক হবে কি—সন্দেহ থেকেই যায়।

কাজ ও লেখাপড়ার সুবাদে বিদেশে এখন প্রচুর বাংলাদেশি রয়েছেন। দেশে তাঁদের নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে। তাঁরাও যদি আসা-যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটির ফ্লাইট ব্যবহার করেন, তাহলেও যাত্রীর অভাব হওয়ার কথা নয়। এ জন্য অবশ্যই বিমানের যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার মান উন্নত করতে হবে। যেখানে রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, নাটবল্টু ঢিলা হয়ে যায়, সেখানে সাধারণ যাত্রীরা বিমানের ওপর ভরসা রাখবে কিভাবে? যাত্রীসেবার মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। রয়েছে বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ। বিমানকে লাভজনক করতে হলে এসব দিকে আরো মনোযোগ দিতে হবে। তখন শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, বিদেশিরাও বিমানের ফ্লাইট ব্যবহারে নিশ্চিন্ত ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবেন। সেই সঙ্গে লাভের গুড় পিঁপড়ায় যেন খেয়ে না নেয়, তারও ব্যবস্থা করতে হবে। বিমানে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।

নিরাপত্তার মান সন্তোষজনক না হওয়ায় একসময় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত কয়েকটি দেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ও কার্গো অবতরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্কাইট্যাক্সের তালিকা অনুযায়ী দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম স্থানে নেমে গিয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এমন অবস্থা জাতি হিসেবেও আমাদের জন্য সুখকর নয়। অনেক দেশের অনেক বিমান সংস্থাই উৎকৃষ্ট সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সুনাম ও মুনাফা বাড়িয়ে চলেছে, সেখানে বাংলাদেশ বিমানের এমন দুরবস্থা কেন থাকবে? সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, এ জন্য সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। আমরা আশা করি, বর্তমান উদ্যোগ তেমনটাই হবে।

Aviation News