শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯০০ স্যামসাং মোবাইল উধাও

এই লেখাটি 105 বার পঠিত

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯০০ স্যামসাং মোবাইল উধাও।
হংকং থেকে আমদানি করা ৯০০ স্যামসাং মোবাইলের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেড। ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ বিমানে আসা মোবাইলগুলো পণ্য সংরক্ষণাগার থেকে চুরি হয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ৫টি প্যালেট (১ প্যালেটে ৯০০ মোবাইল থাকে) আমদানি করলেও বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে চারটি প্যালেট আমদানি করা হয়েছে। তবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বলছে চুরি যাওয়া মোবাইলের মধ্যে তিনটি হ্যান্ডসেট দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিষয়ে তারা এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলাও করেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকমের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা (লজিস্টিক) সাইফুর রহমান জানান, মোবাইল ফোনের ৫টি প্যালেট আমরা আমদানি করেছিলাম। চারটি বুঝে পেলেও একটি প্যালেট (৯০০ মোবাইল) পাওয়া যায়নি। আমরা স্যামস্যাংয়ের মাদার অফিস থেকে জানতে পেরেছি তিনটি হ্যান্ডসেট দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশকে বলা হয়েছে সেই বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনগুলোতে সিম ঢুকিয়ে সেট চালু করলে একটা মেসেজ আসে। সেই মেসেজ আমরা পেয়েছি এবং সেখানেই দেখা যাচ্ছে মোবাইলগুলো দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের আমদানি করা পাঁচটি প্যালেটের সবগুলো কাগজপত্র আছে। সিওর ফোনগুলো চুরি হয়েছে।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, মোবাইল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি গত মাসের ৬ জুলাই হংকং থেকে স্যামস্যাং SM-J600GZBGBNG মডেলের (৫টি প্যালেট) মোবাইল আমদানি করে (ইনভয়েস নম্বর-৯০১২৫৩৬১৮৩)। ৮ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের ই-ওয়াই ৯৮০৭ বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছায়। পরে তা বাংলাদেশ বিমানের তত্বাবধানে ম্যানওয়ার হাউস-২ তে সংরক্ষিত ছিল। ১২ জুলাই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট মমতা ট্রেডিং কোম্পানি লিঃ ঢাকা কাস্টমসসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম শেষে মোবাইল ছাড় করানোর জন্য গেলে সেখানে ৯০০ মোবাইলের হদিস মেলেনি। ওই মোবাইলগুলো ৮ জুলাই থেকে ১২ জুলাই এর মধ্যে অজ্ঞাত চোরেরা ম্যানওয়ার হাউস-২ থেকে চুরি করে নিয়েছে। পরে দীর্ঘ একমাস পর গত ৬ আগষ্ট মোবাইলগুলোর নাম্বার (আইএমইআই) সংগ্রহ করে থানায় মামলা করা হয়। মোবাইলগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন ফকির বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরই মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার পুলিশের বিশেষ শাখায় দেয়া হয়েছে। সেগুলো দেশের কোথাও ব্যবহৃত হচ্ছে নাকি খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তদন্তের জন্য বাংলাদেশ বিমানের তত্বাবধানে ম্যানওয়ার হাউস-২ গিয়ে তাদের কাছে বেশ কয়েকদিনের সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ বলছে তারা মোবাইলের চারটি প্যালেট পেয়েছে কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচটি প্যালেট রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে সময় লাগবে আসল রহস্য উদঘাটনে।’

মোবাইল না পাওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশের কোনো প্রকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Aviation News