রপ্তানী কার্গো ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ক্যাটাগরি-১ অর্জন

এই লেখাটি 131 বার পঠিত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রপ্তানী কার্গো ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের দ্বি-পাক্ষিক এসেসমেন্টে বাংলাদেশের শত ভাগ সাফল্য

বিগত ২০১৬ সাল থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সকল বিমানবন্দরে বিশেষ করে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এভিয়েশন সিকিউরিটি মানোন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অনেক অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি যথা Dual view X-ray Machine, EDS (Explosive Detection System), ইত্যাদি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য এভিয়েশন সিকিউরিটি ক্ষেত্রে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করে এবং এ চুক্তির আওতায় গত নভেম্বর ২০১৭ সালে একটি যৌথ এসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। এই এসেসমেন্ট সন্তোষ জনক হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্য গামী কার্গো নিষেধাজ্ঞা গত ফেব্রয়ারী ২০১৮ সালে প্রত্যাহার করা হয়।

এতে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে অনেক লাভবান হয়। ইতিমধ্যে গত এপ্রিল মাসে আরেকটি যৌথ এসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। এতেও বাংলাদেশ Compliance এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। সর্বশেষ গত ৩১ জুলাই’১৮ এবং ০১ আগস্ট’১৮ শুধুমাত্র এক্সপোর্ট কার্গো Compliance এর উপর আরেকটি যৌথ এসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। এতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জিইউপি, এনডিসি,পিএসসি এবং DFT, UK দলের নেতৃত্ব দেন এভিয়েশন সিকিউরিটির লিয়াজো অফিসার জনাব নকিব আকবর। প্রথম দিনে সকল প্রকার ট্রেনিং রেকর্ড, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সকলের পারদর্শিতা ও যোগ্যতা সরজমিনে পরিদর্শন করা হয়। শেষ দিন অর্থাৎ ০১ আগস্ট’ ১৮ বাংলাদেশে প্রথম বারের মত সংযোজিত EDD (Explosive Detection Dog) এর মাধ্যমে কার্গো স্ক্যানিং এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়।

দুইদিনের এসেসমেন্ট শেষে সফরকারী এসেসমেন্ট টিম এক্সপোর্ট কার্গো ম্যানেজমেন্ট এর কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে মতামত ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের দল নেতার সাথে যৌথ এসেসমেন্ট রিপোর্ট এ স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য যে, এসেসমেন্ট এর সকল ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) এবং বাংলাদেশ বিমান শতভাগ সাফল্য অর্জন করে। অর্থাৎ ক্যাটাগরি-০১ অর্জন করে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সর্বোচ্চ মানদন্ডপ্ রতিফলন করে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি আলোচনা কালে জানান যে, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের মত অনেক দেশেই যুক্তরাজ্য গামী কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তবে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেটি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করায় স্বল্পতম সময়ে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এই সাফল্য সিভিল এভিয়েশন, বাংলাদেশ বিমান এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) এবং অন্যান্য সকল সদস্যদের সতঃস্ফুর্ত সহযোগীতা ও নিরলস পরিশ্রমের কারনেই সম্ভব হয়েছে যা শুধু বাংলাদেশে নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার।

Aviation News