যেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

এই লেখাটি 79 বার পঠিত

অব্যবস্থাপনা, অবহেলার অভিযোগে জর্জরিত বাংলাদেশ বিমান। যাত্রীসেবায় নিম্নমান, লাগেজ হ্যান্ডেলিং, লাগেজের মালপত্র খোয়া যাওয়া এবং শিডিউল বিপর্যয়ের মতো অভিযোগ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এ ধরনের এন্তার অভিযোগের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ এবং দক্ষ জনবল নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে লাভের মুখ দেখতে করণীয় বিষয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল হক বলেন, বিমানের জ্বালানি এবং এভিয়েশন খরচের বেশকিছু টাকা পাওনা ছিল। সেগুলো পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভে নিয়ে আসতে হবে। বিমানের জ্বালানিখেকো পুরনো উড়োজাহাজগুলো বাতিল করে বিশ্বখ্যাত কোম্পানির উড়োজাহাজ বহরে যোগ করা হয়েছে। সামনের মাসেই আসছে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ ড্রিম লাইনার। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করে লাভবান হতে চাইলে বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল প্রয়োজন। অব্যবস্থাপনা বিমানকে লোকসানে নিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। বিমানের যে খাতগুলোতে অপচয় হচ্ছে সেগুলোকে পর্যালোচনা করে খরচ কমাতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করলে ঘুরে দাঁড়াবে বিমান।
বিমান বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি একটি ডিসি-৩ উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা করে বাংলাদেশ বিমান। তাও আবার পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। এক মাস পর ভারত ও হল্যান্ড সরকারের উপহারে বিমানবহরে যুক্ত হয় চারটি ফকার এফ ২৭ উড়োজাহাজ। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি বোয়িং ৭০৭ চার্টার্ড উড়োজাহাজ ১৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা নামে। শুরু হয় বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা। এর ঠিক তিন দিন পর ৭ মার্চ শুরু হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। ১৯৭৩ সালে আটটি ফকার ও দুটি বোয়িং নিয়ে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টিতে। একসময় এই ১০টি উড়োজাহাজ নিয়ে বিশ্বের তিনটি মহাদেশের ২৯টি শহরে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বিমান। ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে প্রথম মুনাফা অর্জন করে বাংলাদেশ বিমান। এরপর বেশ কয়েকবার লাভের মুখ দেখেছে বিমান। কিন্তু বাড়েনি উড়োজাহাজের সংখ্যা। তবে লিজে নেওয়া উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়েছে বিমানবহরে। ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ বিমান। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হলেও টানা লোকসানের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয় বিমানকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২১৫ কোটি টাকা লোকসান, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৪ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বিমান। এ বছরে লোকসান কাটিয়ে ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে বিমান। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৩৫ কোটি টাকা লাভ করে বিমান। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৪ কোটি টাকা। ক্ষতি কাটিয়ে আটটি অভ্যন্তরীণ এবং ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবহরে মোট উড়োজাহাজ আছে ১২টি। এর মধ্যে নিজস্ব ছয়টি এবং লিজ ছয়টি। বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর রয়েছে চারটি, বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর রয়েছে দুটি, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ আছে চারটি এবং ড্যাস ৮ উড়োজাহাজ আছে দুটি। বিমানে বর্তমানে স্থায়ী জনবল রয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জন এবং অস্থায়ী জনবল রয়েছে ১ হাজার ৮০৭ জন।

Aviation News