খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণসহ ৬ প্রকল্প অনুমোদন

এই লেখাটি 106 বার পঠিত

খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণসহ ৬ প্রকল্প অনুমোদন।
সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশিপে (পিপিপি) খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণসহ ৬ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৯২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এ এ মান্নান। এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এ. এন. সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী এবং জুয়েনা আজিজ উপস্থিত ছিলেন।
এ এম মান্নান জানান, বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ নামে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো চীনে তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে নিয়ে এসে এখানে শুধু সেটিং করা হবে। ফলে নির্ধারতি সময়ের আগেই এটির নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পটি বাগেরহাটের রামপালে প্রথম দিকে সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বর্তমানে শুধু ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বাবদ ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ফলে মূল প্রকল্পের তুলনায় ব্যয় কমে গেছে ৩২৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সেটি না হওয়ায় এখন নতুন করে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া চীন সরকারের অনুদান সহায়তায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ২৭৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে বাড়িয়ে পরবর্তীতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৯৬ কোটি টাকা। এখন আবারও ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা। তাছাড়া এটি বাস্তবায়নের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছিল। কিন্তু এখন দুই বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, মাইজদী-রাজগঞ্জ-ছয়ানী-বসুরহাট-চন্দ্রগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৫২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশের ৩৭টি জেলায় সার্কিট হাউসের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ব্যয় ১৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন, ব্যয় ৬৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং সারা দেশের পুরাতন খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

Aviation News