যমুনার ভাঙন অব্যাহত, আরও ১৫ গ্রাম প্লাবিত

এই লেখাটি 34 বার পঠিত

যমুনার ভাঙন অব্যাহত, আরও ১৫ গ্রাম প্লাবিত
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় কৈজুরি, সোনাতুনি, খুকনি ও জালালপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৭টি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ভাঙন কবলিত গ্রামগুলো হল, উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ভাটপাড়া, গুদিবাড়ি, জগতলা, ঠুটিয়া ও হাটপাচিল, জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা, ভেকা, বাঐখোলা, খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি ও ব্রাহ্মণগ্রাম, সোনাতুনি ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, মাকড়া, সোনাতুনি, বড় চানতারা, বারপাখিয়া ও বানতিয়ার।
ওই সব গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, ৫০০ বিঘা আবাদি জমি ও দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ভাঙন আতংক বিরাজ মধ্যে করছে।
এলাকাবাসী জানায়,বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। আর এই পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভাটপাড়া এলাকার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের পাঁচটি স্থানের অন্তত এক হাজার ফুট এলাকার সিসি ব্লক ও জিও টেক্সপেপার নদীগর্ভে ধসে গেছে।
ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছরের ভাঙন এলাকা মেরামত না করায় এবং এ বছর এখনো ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এই ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে বাড়িঘর ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ভাঙন আতঙ্কে এখানকার মানুষেরা প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
যমুনার ভাঙনে ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারিয়ে পগলপ্রায় আলমাস হোসেন জানান, ভাঙনের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। আটবার বাড়ি ভেঙেছে। প্রতিবারই সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবারও যদি বাড়িঘর যমুনার পেটে চলে যায়, তবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।
এ ব্যাপারে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, জালালপুর ইউনিয়নের সুলতান মাহমুদ ও সোনাতুনি ইউনিয়নের লুৎফর রহমান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় স্রোত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে শাহজাদপুরের যমুনা নদীর তীর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না তীর সংরক্ষণ বাঁধ। এলাকাবাসী নিজেদের টাকায় বাঁশ-চাটাই কিনে ভাঙনরোধের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এ ভাঙন রোধে অতিদ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে তারা অনুরোধ করেন।
এলাকাবাসী আরও জানায়, ভাঙন রোধে ছয় বছর আগে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজাদপুরের কৈজুরী থেকে বেনুটিয়া পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। চার বছর ধরে এ বাঁধে কোনো সংস্কার কাজ না করায় বাঁধের বিভিন্ন স্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওই সব দুর্বল স্থানে লিকেজ সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, টাকার সংকুলান না থাকায় আপাতত বাঁধ রক্ষায় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
অপর দিকে শাহজাদপুরে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় পশ্চিম এলাকার আরও ১৫টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। গ্রামগুলি হল- রাউতারা, পোতাজিয়া, ভাইমারা, রেশমবাড়ি, চিথুলিয়া, কাশিনাথপুর, সড়াতৈল, বনগ্রাম, কাকিলামারী, মাদলা, বাড়াবিল, নলুয়া, বৃ-আঙ্গারু, চর আঙ্গারু ও চুলধরি। এ সব গ্রামের মানুষ তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় নৌকাই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা।

Aviation News