যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর জেরুজালেমে বসতি বাড়াচ্ছে ইসরাইল

এই লেখাটি 26 বার পঠিত
IMG_02122019_104119_(728_x_410_pixel)

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর জেরুজালেমে বসতি বাড়াচ্ছে ইসরাইল।

ইসরাইল গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে জেরুজালেমের উত্তরে ১১ হাজার অবৈধ আবাসন ইউনিট অনুমোদন দেয়া হবে। ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতিকে বৈধতা দেয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের কয়েক সপ্তাহ পরে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কঠোর-ইসরাইলি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ ঘটনা ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতিকে বৈধতা দান। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া ইসরাইলপন্থী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম। মিডল ইস্ট মনিটরের রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন বসতি ইউনিটগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের উত্তরে অবৈধ আটারোট শিল্প বসতিতে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন ৬০০ ডুনামস (৫৪ হাজার বর্গমিটার) জায়গার ওপরে নির্মিত হবে।

ইসরাইল বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি করা এই পরিকল্পনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আপত্তিসহ ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে বসতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের কারণে’ আটকে দেয়া হয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ১৮ নভেম্বর ঘোষণা করেন, ১৯৭৮ সালের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আইনি মতামতকে প্রত্যাখ্যান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসন ইসরাইলের বসতি স্থাপন নীতিকে অবৈধ বলেছিল। এই মতামতটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করার ভিত্তি ছিল। অবশ্য জিমি কার্টারের উত্তরসূরি রোনাল্ড রিগ্যান জিমির সেই নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেন।

বসতিগুলো অবৈধ ছিল না বললেও রোনাল্ড রিগ্যান এগুলোকে উসকানিমূলক বলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রেসিডেন্ট বসতি নির্মাণকে শান্তি আলোচনার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে এর সমালোচনা করলেও সেটিকে তারা অবৈধ বলতে রাজি হননি। ‘অবৈধ’ ও ‘শান্তিতে বাধা’ বলেও অভিহিত করেছিলেন অনেকে।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তি দিচ্ছে যে, ইসরাইলি জনবসতিগুলো তাদের একটি কার্যকর ও স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবির পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে সব ইসরাইলি জনবসতিকে অবৈধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করে।

১৯৬৭ সালে ইসরাইলের দখল করা অঞ্চলটি সার্বভৌম ইসরাইলের অঞ্চল নয়, ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি নাগরিক নয় এবং তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। আজও পূর্ব জেরুসালেমে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ইহুদি বাস করে। পূর্ব জেরুজালেমের বেশির ভাগ তথা ৩ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ক্রমবর্ধমান জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে যেখানে জায়গা খুব কম।

পিস নাউ জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম দুই বছরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমের বসতিগুলোতে এক হাজার ৮৬১ আবাসন ইউনিটকে অনুমোদন দিয়েছে। এটি আগের দুই বছরে অনুমোদিত এক হাজার ১৬২ এর তুলনায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানগুলোতে দেখা যায় যে বসতি স্থাপনের জন্য এক হাজার ৮১ জনকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল শুধু ২০১৭ সালেই, যা ২০০০ সালের পরে বছরে অনুমোদন প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ফিলিস্তিনিদের জন্য মোট এক হাজার ২৩৩ আবাসন ইউনিট অনুমোদিত হয়েছিল।

এদিকে আলজাজিরা জানায়, দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছরের এক ফিলিস্তিনি কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে আরো পাঁচজন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল খান ইউনুসের কিশোর ফাহাদ আল আসতালকে পেটে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলের সেনারা।

Aviation News