মালয়েশিয়ায় বহু বাংলাদেশী কর্মী রাতে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন

এই লেখাটি 39 বার পঠিত

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ‘ব্যাকডেটে রিহায়ারিং’-এর মাধ্যমে বৈধ করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া কয়েক বাংলাদেশী দালালকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। দালালদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জামসহ নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়। এদিকে, মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার অভিযানের ফলে বহু কর্মী এখন জঙ্গলে পালিয়ে আছেন। তারা দিনেরবেলায় কারখানায় কাজ করে রাতে জঙ্গলে থাকছেন। মানবেতর জীবনযাপনে বহুকর্মী ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কোন প্রকার আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসেনি। এখন ভরসা শুধু দেশটিতে অবস্থিত হাইকমিশন। কিন্তু হাইকমিশনও কিছু করতে পারছে না। সব মিলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করছে।

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন সূত্র থেকে জানা গেছে, সেলাঙ্গর প্রদেশের সুবাং জায়ার একটি মার্কেট থেকে ১৬ হাজার রিঙ্গিত ও ৮৫ পাসর্পোটসহ এক বাংলাদেশীকে পুলিশ আটক করেছে। এর আগে আরও এক বাংলাদেশীকে কয়েক শ’ ভুয়া পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। চক্রটি মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের বৈধ করে দেয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভুয়া পাসপোর্ট ও বৈধকরণের সনদ দিয়ে আসছিল। পুলিশ গত ৬ মাসে ৭০ জনের মতো দালালকে আটক করেছে। যাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার ভুয়া পাসপোর্ট উদ্ধার করা হযেছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তফার আলী গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেছেন। তিনি ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশী সাড়ে ৪ হাজার কর্মীসহ বিভিন্ন দেশের ২১ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। ৩০ জুন বৈধ হওয়ার ‘রিহায়ারিং’ কর্মসূচীর শেষদিন থেকে এ পর্যন্ত এদের আটক করা হয়। আটক অভিযান চলছে।

আটককৃতদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছেন। মানবসম্পদ পাচারের অভিযোগের মুখে থাকা একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়া কোন কর্মীকে নিয়োগ না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রীর ঘোষণার পর বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কোন উদ্যোগ নেয়নি। হাইকমিশন পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ই-মেইল ও চিঠি দিয়ে করণীয় জানতে চেয়েছে। কিন্তু হাইকমিশনের ই-মেইল ও চিঠির বিষয় নিয়ে কোন মন্ত্রণালয়ে আলোচনাই হয়নি। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুকে সেরি মোস্তাফার আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীর আটকের সংখ্যায় ইন্দো নেশিয়ার বেশি। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান। ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ১ জুলাই থেকে মেগা-থ্রি নামে অভিযান চলছে। মেগা থ্রি অভিযানে বাংলাদেশের কয়েক হাজার কর্মী আটক হয়েছে। অভিযান চলমান থাকবে। অভিবাসন খাতে সব ধরনের অনিয়ম- দুর্নীতি দূর করতে আটক অভিযান কতদিন চলবে তা তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। রিহায়ারিং প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে মেগা-থ্রি নামে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন পথে কয়েক লাখ অবৈধ বিভিন্ন দেশের নাগরিক প্রবেশ করেছে। অবৈধ এই স্রোত ঠেকাতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু থেকে মোতালেব নামের এক কর্মী জানিয়েছেন, ১০/১২ কর্মী গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই জঙ্গলে রাত কাটাচ্ছেন। দিনেরবেলায় লুকিয়ে কাজ করে তারা রাতে জঙ্গলে থাকছেন। তাদের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েক জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জঙ্গলে নানা রকমের মশা,মাছি,সাপ বিচ্ছুর কামড় সহস্য করতে হচ্ছে। শুধু তারাই না কয়েক হাজার বাংলাদেশী কর্মী জহুর বারুতে একই অবস্থায় রয়েছেন।

দালাল চক্র প্রতি কর্মীর ভুয়া নিবন্ধনের জন্য সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত নিত। বেশ কিছু দালাল আটক হওয়ার পর বাংলাদেশী বহু কর্মী আর্থিকভাবে আরও ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

তারা বৈধতাও পাবে না। আবার ধরা পড়লে শাস্তির মাত্রা বেড়ে যাবে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বিদেশী কর্মীদের বৈধকরণের জন্য রিহায়ারিং নামে একটি প্রকল্প ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চালু করে দেশটির সরকার। ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। এই সুবিধা নিয়ে যারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এখন গ্রেফতার অভিযান চলছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ এর নাম দিয়েছে ‘মেগা-থ্রি’ অভিযান। এই অভিযানে দেশটিতে বিভিন্ন দেশের ২১ হাজারের বেশি কর্মী আটক হয়েছে। অভিযান চলতে থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে।

Aviation News