কক্সবাজার বিমানবন্দরে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম

এই লেখাটি 201 বার পঠিত
1574179651

কক্সবাজার বিমানবন্দরে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এর আগে অনিয়ম দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক মো: আমিনুল হাসিবকে। ২০১২ সালে ৪ অক্টোবর তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

জানা যায়, বিমানবন্দরে সরকারী উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড ও কাজের গুণগত মান সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আজ বৃহস্পতিবার সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী কক্সবাজার সফর করে গেছেন। বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমানও কক্সবাজারে আসার কথা ছিল। গত মঙ্গলবার ঢাকায় যোগদান করেছেন নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম। বর্তমানে কর্মস্থলে (কক্সবাজার বিমানবন্দর) থেকে সরকারী উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, নিষ্টাবান হিসেবে সরকারী দায়িত্ব পালনে কক্সবাজার বিমানবন্দরে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে বুধবার থেকে তিনি কর্মব্যস্ততা শুরু করেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সূত্র জানায়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে বদ্ধ পরিকর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর, বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট সহ দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বের কাছে আরও বেশী পরিচিত করতে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য ৬৭৫ফুট রানওয়ে থেকে ৯হাজার ফুটে উন্নীত করন কাজ ও রানওয়ের পাশে ১৫০ফুট শোল্ডার থেকে ২০০ ফুট শোল্ডারে উন্নীত করন বাবদ ১১৯৩.৩২ কোটি (প্রথম পর্যায়ে) বরাদ্দ দিয়েছেন। ২০১৮ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজটি শেষ হওয়ার কথা। তবে ২০১৯সাল পেরিয়ে যেতে একমাস মাত্র বাকী। এখনও পর্যন্ত প্রকল্প কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি। ইত্যবশরে প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হাসিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে দিয়ে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করানো হয়। সরেজমিন তদন্তে ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। একজন অতিরিক্ত সচিবের তদন্তে সত্যতা উঠে আসায় সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হাসিবকে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতকারী বরখাস্ত হওয়া ওই ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল হাসিব বর্তমানে ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাজে তাকে সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষস্থানীয় জনৈক কর্মকর্তা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তথ্য মিলছে। সূত্র মতে দুর্নীতির টাকায় তিনি নিকট আত্মীয়ের নামে খুলনা বিমানবন্দরের পাশে বহু জমিজমা কিনে রেখেছেন। কুমিল্লায় গড়ে তুলেছেন সুরম্য অট্টালিকা। এ ব্যাপারে জানতে আমিনুল হাসিবের মুঠোফোনে একাধিক কল করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে মো: আমিনুল হাসিব উন্নয়ন প্রকল্পে ছোটখাট কিছু কাজ তার নিজস্ব লোক দ্বারা সম্পন্ন করিয়ে আত্মসাত করেছেন বিপুল টাকা। এছাড়াও পুরনো রানওয়ে-শোল্ডার ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ করতে শুধুমাত্র শতকরা ১০ভাগ পুরাতন (ইট-কংকর) ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে। তবে তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে শতকরা ৮০ভাগ পুরনো ইটভাঙ্গা ইত্যাদি মেকাডম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন। এ অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে রানওয়ে ধ্বসে পড়া বা দেবে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নকাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশে যাওয়া-আসার খরচ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রদান করার নিয়ম থাকলেও এ সংক্রান্ত একাধিক ভূয়া বিল-ভাউচার জমা করে সরকারী টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সাবেক প্রকল্প পরিচালক হাসিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। পুরনো মালামাল তথা স্কাব ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট দফতরে বুঝিয়ে দেয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার নতুন রানওয়ে- শোল্ডারে সাব-বেইজ ওই পুরনো স্কাব ব্যবহার করে নিয়েছেন বলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। উল্লেখ্য পুরনো রানওয়েতে শোল্ডার ছিল ৩ লক্ষ ৩৮হাজার ৭৫০ফুট। এসব ভেঙ্গে ঠিকাদার নতুন শোল্ডার নির্মাণে তা ব্যবহার করেছেন। এখানে ঠিকাদারের কাছ থেকে কত ফুটের এবং কত টাকা বিল কর্তন করে সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে, তা তদন্তের দাবী করেছেন বিভিন্ন মহল।

Aviation News