‘হাতুড়ি দিয়ে প্রতিবাদকারীর হাড় ভেঙে দেওয়া বর্বর আচরণ’: ফারুকী

এই লেখাটি 44 বার পঠিত

কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভের সময় ২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে রাস্তায় ঘিরে ধরে পেটান ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অন্যরা যখন পেটাচ্ছিল, তখন আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক ছাত্রলীগকর্মী হাতুড়ি দিয়ে তরিকুলের পিঠে ও পায়ে আঘাত করে। এতে তার ডান পায়ের দুই হাড় ভেঙে যায়, মাথায় লাগে আটটি সেলাই। এই মুহূর্তে সারা শরীরে মারের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে সময় কাটছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এ যুগ্ম আহ্বায়কের।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় নির্মাতা ও প্রযোজক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

৫ জুলাই দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মারধরের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ফারুকী। তিনি লিখেন, ‘শেষ কবে একটি ছবি আমাকে এতটা ভয় পাইয়ে দিয়েছে, মনে করতে পারছি না। আজকে সারাদিন কোনো উৎসব উপভোগ করতে পারিনি। ছবিটি আমাকে বারবার ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।

প্রথমবার যখন ছবিটি দেখি, তখন আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিল। আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ একজন সমর্থকের পক্ষেও ছবিটি হজম করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।’

তরিকুলকে হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি: দ্য ডেইলি স্টার
হামলার বিচার চেয়ে ফারুকী বলেন, ‘এ ঘটনাকে বিচারের আওতায় অানা উচিত। আমার কথা হচ্ছে, আমাদের ভিন্ন মত থাকতে পারে, আমরা তর্ক করতে পারি, আমরা ষড়যন্ত্র খুঁজতে পারি, আমরা কারো দাবি মেনে নিতে পারি বা সেটিকে উপেক্ষা করতে পারি; কিন্তু হাতুড়ি দিয়ে কোনো প্রতিবাদকারীর হাড় ভেঙে দেওয়া বর্বর আচরণ। এটি যদি আমাদের হৃদয় ভেঙে না দেয়, তাহলে কোনটি দেবে?’

স্বনামধন্য এ নির্মাতা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সময় থাকতেই সরকারের থিংকট্যাঙ্কের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

তরিকুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। হামলার পর যন্ত্রণায় কাতরানো এই শিক্ষার্থীকে পুলিশ ও কয়েকজন সাংবাদিক মিলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার কোনো এক কারণে তাকে ‘বাধ্যতামূলকভাবে’ হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বলে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তরিকুলকে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা।

Aviation News