পহেলা জুন থেকে চালু হচ্ছে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের চতুর্থ দৈনিক ফ্লাইট

এই লেখাটি 1788 বার পঠিত
IMG_25112019_172055_(728_x_410_pixel)

এমিরেটস এয়ালাইন ঢাকা-দুবাই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা প্রদান করেছে। বর্তমানে এই রুটে দৈনিক ৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ১ জুন ২০২০ থেকে চতুর্থ দৈনিক ফ্লাইট শুরু হলে সপ্তাহে ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৮টিতে এবং ঢাকা থেকে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ভায়া দুবাই বিশ্বের ৬টি মহাদেশে বিস্তৃত এমিরেটসের নেটওয়ার্কভুক্ত ১৫০টির অধিক গন্তব্যে আরও সুবিধাজনক সংযোগ লাভ করবেন।
বাংলাদেশে এমিরেটসের কান্ট্রি ম্যানেজার সাঈদ আবদুল্লা মিরান সোমবার সাংবাদিকদের জানান, “বাংলাদেশের সঙ্গে এমিরেটসের একটি বিশেষ বন্ধন রয়েছে যার শুরু ৩৩ বছর পূর্বে। নতুন এই ফ্লাইটটি প্রমাণ করে যে এমিরেটসের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হলে ব্যবসা বা বিনোদনের জন্য ভ্রমণকারী যাত্রীরা ফ্লাইট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশী অপশন পাবেন। এছাড়াও অবকাশ যাপন বা ব্যবসার কাজে ভ্রমণের জন্য ভায়া দুবাই, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যগুলোতে অধিকতর সুবিধাজনক সংযোগ পাওয়া যাবে। নতুন ফ্লাইট বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইন বাউন্ড ট্যুরিজম, ব্যবসা ও বাণিজ্যের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
বর্তমানে চালু অন্যান্য ফ্লাইটগুলোর মতোই চতুর্থ ফ্লাইটটি পরিচালনায় ব্যবহƒত হবে সুপরিসর বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, যার বিজনেস শ্রেণীতে ৪২টি এবং ইকোনমি শ্রেণীতে ৩১০টি আসন রয়েছে। চতুর্থ ফ্লাইটটি চালু হলে ঢাকা-দুবাই রুটে উভয় দিকে সপ্তাহে অতিরিক্ত মোট ২৮০ টন মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য বর্তমানে এমিরেটস ফ্লাইটে প্রতি সপ্তাহে উভয় দিকে ৮০০ টনের অধিক মালামাল পরিবহনের সুবিধা রয়েছে।
IMG_25112019_172130_(728_x_410_pixel)অতিরিক্ত ফ্লাইট ইকে ৫৮৮ রাত ১০:৩০ মিনিটে দুবাই ছেড়ে পরবর্তী দিন সকাল ৫:২০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছবে। ফিরতি ফ্লাইট ইকে ৫৮৯ সকাল ৮:০০ টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল ১১:০০ মিনিটে দুবাই অবতরণ করবে। নতুন ফ্লাইটটির সময় সূচী এমন ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারী যাত্রীরা লন্ডন, রোম, ফ্রাংকফুর্ট, পোর্টো, নিউইউয়র্ক, ওয়াশিংটন ডি.সি., জোহান্সবার্গ এবং কেপটাউনসহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গন্তব্যে আরও সুবিধাজনক সংযোগ লাভ করবেন।
এমিরেটস তার অন্যন্য সংস্কৃতি বান্ধব ইনফ্লাইট সেবার জন্য সুপরিচিত। এমিরেটসে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য এয়ালাইনের পুরস্কার বিজয়ী বিনোদন ব্যবস্থা- আইস এ রয়েছে প্রায় ৪৫০০ চ্যানেল। ইংরেজী সাব-টাটেইলসহ ৫ থেকে ৬টি বাংলাদেশী ছায়াছবির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবি, টিভি প্রোগ্রাম, লাইভ টিভি, মিউজিক, গেমস, পডকাস্টসহ আর অনেক কিছু অন্তভূক্ত রয়েছে এই ব্যবস্থায়। এ বছর হাজার হাজার যাত্রী ফ্লাইট চলাকালীন জনপ্রিয় বাংলাদেশী ছায়াছবি ‘পোড়া মন – ২’, ‘একটি সিনেমার গল্প’ এবং ‘শুন্য’ উপভোগ করেছেন। শিশু ভ্রমণকারীদের ব্যস্ত রাখা এবং বিনোদন প্রদানের জন্য রয়েছে সৌজন্যমূলক খেলার সামগ্রী, শিশুদের খাবার ও চলচ্চিত্র। ভ্রমণকারীর পরিবারের জন্য রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বোর্ডিং এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য ফ্রি স্ট্রলার।
এমিরেটস ভ্রমণকারীরা এয়ারলাইনের বহুজাতিক কেবিন ক্রুদের আন্তর্জাতিক মানের সেবার পাশাপাশি আঞ্চলিক থিমভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক  মেন্যু এবং সৌজন্যমূলক পানীয় উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ‘আলু দিয়ে খাসির মাংস’, ‘সরষে বেগুন’ এবং ‘ভুনা গোস্ত’।
এমিরেটসের ভ্রমণকারী যাত্রীরা বিজনেস শ্রেণীতে ৪০ কেজি এবং ইকোনমি শ্রেণীতে ৩৫ কেজি ব্যাগেজ এলাউন্স পেয়ে থাকেন। ভ্রমণকালে প্রতি যাত্রীর জন্য রয়েছে বিনা খরচে ২০ এমবি ওয়াই-ফাই ডাটা ব্যবহারের সুবিধা।
১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে দুটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট নিয়ে এমিরেটস তাদের বাংলাদেশ কার্যক্রম শুরু করে। যাত্রী চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় দৈনিক ৩টি ফ্লাইট। গত ৩৩ বছরে এমিরেটস ঢাকা থেকে এবং ঢাকা অভিমুখে ৯৯ লক্ষের অধিক যাত্রী পরিবহন করেছে।

Aviation News