রিজার্ভের অর্থ দিয়ে কেনা হচ্ছে নতুন দুই বোয়িং ড্রিমলাইনার

এই লেখাটি 2404 বার পঠিত
সিয়াটলে প্রস্তুত হচ্ছে আরও ২ ড্রিমলাইনার

বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ কিনতে রিজার্ভ থেকে অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সোনালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে দেয়া হবে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার; যার পরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় দুই হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৪০ পয়সা)। এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ বিমানের জন্য দু’টি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ কেনার দায় শোধ করা হবে। ১০ বছর মেয়াদে সোনালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে এ অর্থ দেয়া হচ্ছে। এতে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক রেট) সাথে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করবে। আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এ অর্থ ছাড় করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক বিমান কিনতে রিজার্ভ থেকে সোনালীসহ বিভিন্ন ব্যাংককে অর্থ দিয়েছিল। সোনালী ব্যাংকের কাছে আগের বকেয়া রয়ে গেছে এখনো।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, বিমানকে দু’টি উড়োজাহাজ কেনার ঋণ দেয়ার জন্য এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সোনালী ব্যাংকের চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী বোয়িংয়ের দু’টি উড়োজাহাজ কিনতে বিমানকে অর্থ সরবরাহ করা হবে। আর সোনালী ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে সোনালী ব্যাংকের কাছে আমানত রাখছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সোনালী ব্যাংক একটি নির্ধারিত হারে মুনাফা দেবে।

সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোনালী ব্যাংক বিমানকে দু’টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য যে পরিমাণ ঋণ দেয়া হবে, তা মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ধার নেয়া হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংককে লাইবর ও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে শোধ করতে হবে। আর সোনালী ব্যাংক বিমানের কাছ থেকে মুনাফা পাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ; অর্থাৎ বিমান বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংককে পরিশোধ করবে লাইবর এবং ১ শতাংশ হারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত আগস্টে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে রিজার্ভ থেকে অর্থ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সোনালী ব্যাংককে কয়েক ধাপে রিজার্ভ থেকে দেয়া হয় ২১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড; যার পরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় দুই হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এ অর্থে বাংলাদেশ বিমানের জন্য দু’টি বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনার দায় শোধ করে। ওই ঋণও ১০ বছর মেয়াদে দেয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে নতুন দু’টি উড়োজাহাজ আগামী মাসেই বিমানবহরে যুক্ত হবে। উড়োজাহাজ দু’টির মডেল হলো বোয়িং ৭৮৭-৯। এ মডেলের একটি উড়োজাহাজ ৩০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারে। টানা ১৪ হাজার কিলোমিটার উড়তে সক্ষম এ উড়োজাহাজের দৈর্ঘ্য ২০৬ ফুট। এ দু’টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২টিতে। নতুন উড়োজাহাজ দুটির নাম দেয়া হতে পারে ‘সোনার তরী’।

সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, নানা কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। যে টাকা বিমানকে ঋণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে তা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট ঝুঁকি আছে। কারণ বিমান এমনিতেই একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ার অর্থই হলো ওই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়া। বিমান সোনালী ব্যাংকের অর্থ ফেরত দিতে না পারলে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়েই আদায় করে নেয়া হবে। এভাবেই লোকসানের পাল্লা আরো ভারী হবে সোনালী ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রিজার্ভ থেকে সোনালী ব্যাংককে ঋণ দেয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। এটা রিজার্ভ থেকে বিনিয়োগের একটি অংশ হবে। রিজার্ভের অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিল, বন্ডে বিনিয়োগ আছে। তেমনি সোনালী ব্যাংককেও রিজার্ভ থেকে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ১০০ কোটি ডলার। আর এ দিন প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৪ টাকা ৪০ পয়সা।

নয়া দিগন্ত

Aviation News