ড্রিমলাইনার যুক্ত হলেও ‘সংকট’ কাটছে না বিমানে

এই লেখাটি 126 বার পঠিত

ড্রিমলাইনার যুক্ত হলেও ‘সংকট’ কাটছে না বিমানে।
নিকট ভবিষ্যতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের বোয়িং-৭৮৭-৮ মডেলের চারটি ড্রিমলাইনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পছন্দ করে এর নাম দিয়েছেন- ‘আকাশবীণা’, ‘হংসবলাকা’, ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’।
চলতি বছরের আগস্ট ও নভেম্বরে দু’টি এবং বাকি দু’টি যোগ হবে ২০১৯ সালে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজগুলোর যুক্ত হওয়া নিয়ে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থায় চলছে নানা আয়োজন, চলছে জল্পনা-কল্পনা।
বিমানের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট ও নভেম্বরে আসা ২৭১ আসন বিশিষ্ট দুটি বোয়িংই লিজে পরিচালিত হবে। বিমানের বহরে বোয়িং দুটি সংযুক্ত হলেও আপাতত উড়োজাহাজ সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না। পরবর্তী বছরে আরও দুটি ড্রিমলাইনার যুক্ত হওয়ার পর বিমানের ক্যাপাসিটি বাড়বে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম বলেন, ‘এ বছর ড্রিমলাইনার দুটি আসলেও বিমানের যাত্রী বহনের ক্ষমতা বাড়বে না। বরং কিছুটা কমবে। তবে আগামী বছর আরও দুটি ড্রিমলাইনার বহরে যুক্ত হলে সংকট অনেকটা কমে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আগস্ট ও নভেম্বরে যুক্ত হওয়া ড্রিমলাইনার দুটি ২৭১ আসন বিশিষ্ট। অর্থাৎ উড়োজাহাজ দুটি বহরে যুক্ত হলে ক্যাপাসিটি দাঁড়াবে ৫৪২-এ। কিন্তু বিদায়ের জন্য অপেক্ষারত বোয়িং ৭৭৭ দু’টির ক্যাপাসিটি ৮৩৮। অর্থাৎ যোগ-বিয়োগের হিসাবে ৩৯৬ আসন কমে যাচ্ছে।’
আসন সংখ্যা কমে গেলে ব্যবসায় কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই সময় সংকট হতে পারে ভেবে আমরাও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’
এ প্রসঙ্গে বিমানের মুখপাত্র (মহাব্যবস্থাপক, জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মোট চারটি উড়োজাহাজ লিজ নিয়েছে বিমান। গত মৌসুমে হজের জন্য দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া করা হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় নতুন রুট চালু এবং যাত্রীর চাপ বাড়ায়, বিশেষ করে হজ মৌসুমে ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতে এবার চারটি উড়োজাহজ আগে থেকেই ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংকট মনে হলেও আমরা তা মোকাবেলায় অতীতের মতো সফল হবো।’
বিমান সূত্রে জানা গেছে, টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম বোয়িং-৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। যদিও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ক্যাটাগরি পরিবর্তন না হওয়ায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এ উড়োজাহাজকেও উড়তে হবে ১৬ ঘণ্টার কম সময়। অর্থাৎ স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে উড়বে উড়োজাহাজ দুটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেবিচক এখনও দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় নিউইয়র্কের মতো দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে ড্রিমলাইনার ব্যবহারের সুযোগ মিলবে না। যদিও নতুন প্রজন্মের এ উড়োজাহাজ বহরে যুক্তের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইউরোপ-আমেরিকার মতো দীর্ঘ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা।
নতুন প্রজন্মের সর্বাধুনিক উড়োজাহাজ চারটি বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার আগেই নিউইয়র্কের মতো বড় দূরত্বে ফ্লাইট শুরুর প্রক্রিয়া চালায় বিমান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না বেবিচক দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেবিচক থেকে রেজিস্ট্রেশন করা কোনো উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। মূলত ফ্লাইট নিরাপত্তায় দুর্বলতার কারণে বেবিচককে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।
একই কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো উড়োজাহাজেরও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। ফলে বহরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে সক্ষম উড়োজাহাজ থাকলেও ছোট দূরত্বের রুটেই ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত রাখতে হচ্ছে বিমানকে।
তবে শিগগিরই ক্যাটাগরি ১-এ উন্নীত হওয়ার আশা বেবিচক’র। তারা বলছে, গত ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) একটি নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে আরও দুটি কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্নের পর। এ সমীক্ষায় সফলতা অর্জন করলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এফএএর ক্যাটাগরি রেটিং-১ অর্জনে সক্ষম হবে। ফলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে।
বেবিচক বলছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়- সে চেষ্টাই করছে প্রতিষ্ঠানটি।

Aviation News