হামলার জবাব একদিন দিতে হবে

এই লেখাটি 49 বার পঠিত

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ‘মালিক’ আছে। আওয়ামী লীগের মালিক বঙ্গবন্ধু-পরিবার, বিএনপির মালিক জিয়া-পরিবার। এরকম ছোট-বড় সব দলেরই মালিক আছে। এই মালিকদের বাইরের কারো শত ত্যাগ করলেও ‘মালিকানা’ পাওয়ার সুযোগ খুব একটা নেই তাদের ছেলেমেয়ে বা নাতিপুতি না হলে, কিংবা তারা না মারা যাওয়া পর্যন্ত।

সব মালিকের মতো এই মালিকেরাও চায় মানুষ তাদের জন্য, তাদের ভালো-মন্দ সবকিছুকে বৈধতা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে জীবন পর্যন্ত দিক। এই জীবন যাতে সাধারণ মানুষ ও তাদের সন্তানেরা দিতে উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য এক-এক দল এক-এক ধরনের বায়বীয়-ভাবাবেগপূর্ণ কথাবার্তা চালু রাখে। পাশাপাশি তারা এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখে, যাতে তাদের খপ্পর থেকে কেউ নিষ্কৃতি না পায়।

এই কথাবার্তায় ভুলে, কেউ বা খপ্পরে পড়ে আমরা, আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের লাঠিয়াল হয়ে কাজ করি, একে অন্যের মাথায় বাড়ি মারি, খুন করি, নিজেরা খুন হই, খুন হয়ে তাদের রক্ষা করি। এভাবেই মালিকেরা তাদের স্বার্থ হাসিল করে, নিজেরা ক্ষমতায় থাকে এবং দেশ-মাটি-মানুষ ধ্বংস করে ফুলে-ফেঁপে ওঠে। এই কাজে তারা কিছু মানুষকে কিছু দায়িত্ব বণ্টন করে গাড়ি-বাড়ি দিয়ে তাদেরও কিছু পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

আজ কোটা আন্দোলনের মতো ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কিছু ছেলে। এরা কারা? এরা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই-বোন, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত আর বিত্তহীন পরিবারের সাধারণ ছেলেমেয়ে। যথেষ্ট যোগ্যতার পরিচয় দিয়েই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিল। কিন্তু আজ তারা তার মতোই আরেক দল ছেলেমেয়ের ওপর হামলা করেছে, যাদের আন্দোলন সফল হলে সার্বিকভাবে দেশের স্বার্থ, মানে তার স্বার্থও রক্ষা পাবে। কিন্তু এরা বুঝেছে মালিকের বোঝা, মালিকের স্বার্থের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ।

কিন্তু এই আন্দোলন মালিকের স্বার্থের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ দেখার পরিস্থিতির পরিবর্তন ইতোমধ্যেই ঘটিয়ে ফেলেছে। তাই সারা দেশের অসংখ্য আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ কর্মী-সমর্থক আজ এই আন্দোলনের পাশে। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন রয়েছে।

সুতরাং এই হামলার স্ট্র্যাটেজি দিয়ে বর্তমান শাসকদলের মালিকেরা পার পাবে না। এই আন্দোলন সফল হবেই। আর এর মাধ্যমেই ক্ষমতার প্রতি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনায় বাংলাদেশের রাজনীতির একধাপ অগ্রগতি ঘটবে। ছাত্ররাই ঘটাবে, এ দেশের ইতিহাসে সবসময় যারা ঘটিয়ে এসেছে। দুর্বৃত্ত রাজনীতির কেন্দ্রকে আজ এরা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এদের ওপর হামলার জবাব একদিন দিতে হবে।

সময় বয়ে যাচ্ছে। আজ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে এসে বলুন, আমরা কোটা পেয়েছি, আমাদের সন্তানেরা কোটা পেয়েছে, পাচ্ছে। এখন দেশের স্বার্থে আমাদের নাতিপুতির কোটা চাই না। কোনোভাবেই সর্বমোট কোটা ১০ থেকে ২০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

সূত্র: প্রিয়.কম

 

Aviation News