শহিদ মিনারে ছাত্রীর উপরে ‘ছাত্রলীগের’ যৌন নিপীড়ন

এই লেখাটি 69 বার পঠিত

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান নিলে আবারও হামলা চালিয়েছেন ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা’। এ সময় তাদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হন একাধিক ছাত্রী।

২ জুলাই, সোমবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে ৩০ জুন, শনিবার সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বেধড়ক পেটান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ১ জুলাই, রবিবার আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অনেককে মারধর করে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। পরে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীরা জানান, সোমবার তারা পতাকা মিছিল করবেন।

এভাবেই হামলার শিকার হন তারা। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। প্রথমে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানসহ বেশ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ফারুককে মোটরসাইকেলে করে উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যাকে পেয়েছেন, তাকেই কিল-ঘুষি-লাথি দিয়েছেন।

মারধরের বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর একটি ছবিতে দেখা যায়, একজন পুরুষ ও নারীকে রিকশা থেকে টেনে নামানো হচ্ছে। রিকশাকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকজন যুবক। তাদের কেউ ওই নারীর হাত ধরে টানছেন, কেউ ব্যাগ, জামা ধরে টানছেন। নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করছেন।

নিপীড়নকারী ওই যুবকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

নারীকে ঘিরে রেখেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে তারা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে ২০-২৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে বাইক নিয়ে আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে তাদের ওপরে হামলা চালিয়েছে। সে সময় তারা মেয়েদের গায়েও হাত দিয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুন্নাহার লীনা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা আমাদের ধাক্কাধাক্কি করেছে, আমাদের তুই করে কথা বলতেছে। আমরা কোন দেশে বাস করি যে দেশে কোনো অধিকার নেই। আমরা একটি ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছি। কিন্তু আমাদের ধরে ধরে মারা হচ্ছে। এই মারার অধিকার তারা কোথায় পায়। আমরা কি স্বাধীন দেশে থাকি? প্রকাশ্যে তারা হুমকি দেয়, আমাদের মেরে ফেলা হবে, ধর্ষণ করা হবে।’

একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, হামলার সময় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, স্কুলছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, মহসীন হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানীসহ অনেক নেতাকে দেখা গেছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সানি টিএসসিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পতাকা মিছিলের সঙ্গে লাঠিসোটা রেখে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করবে। তাই শৃঙ্খলা যেন নষ্ট না হয় সে জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমরা তাদের কোনো মারধর করি নাই।’

এদিকে সোমবারের হামলার কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী।

Aviation News