বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার বিদায়

এই লেখাটি 56 বার পঠিত

৪-৩ গোলের হারে আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এর চেয়ে আর উত্তেজনা ছড়াতে পারে কোনো ম্যাচ? পারে না! পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিল নাটক আর রোমাঞ্চ। চিত্রনাট্যের শেষ পর্যায়ে জয়ী হলো ফ্রান্স। শেষ হাসি হাসতে পারল না আলবিসেলেস্তেরা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠা এ খেলা ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলেছে। এবারের আসরের এ পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এটি। খেলার প্রথম দিকেই পেনাল্টিতে ফ্রান্স এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধের আগেই খেলায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরো একটি গোল ফ্রান্সের জালে জড়িয়ে গেলে সারা বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক উল্লাসে মেতে উঠেন। কিন্তু একবারের জন্যও হাল ছাড়েনি ফরাসিরা। তারই ফল হিসেবে ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
জিতলে কোয়ার্টারে হারলে বাড়ি-এমন সমীকরণ নিয়ে কাজান এরিনায় মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স। আক্রমণাত্মক শুরু করে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। সূচনালগ্ন থেকেই একের পর আক্রমণে ওঠে তারা। প্রথম সুযোগ পায় ৭ মিনিটে। বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক নেন আঁতোয়া গ্রিজম্যান। তবে তার দুর্দান্ত শটটি গোলবারে লেগে ফেরত আসে।
১০ মিনিটে আবার আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। এবার আর বিমুখ হতে হয়নি তাদের। ক্ষীপ্রগতির কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ডি বক্সে ফাউল করেন মর্কোস রোহো। ফলে পেনাল্টির বাশিঁ বাজান রেফারি। তা থেকে গোল করতে মোটেও ভুল করেননি গ্রিজম্যান। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ’৯৮ চ্যাম্পিয়নরা।
পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। এতে খেলা ওপেন হয়ে যায়। ফলে আরও আক্রমণে ওঠার সুযোগ পায় ফ্রান্স। ১৯ মিনিটে আবার ঝটিকা অ্যাটাক করে দলটি। ফের দৃশ্যপটে এমবাপ্পে। এবার তাকে ফাউল করেন নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকো। ফলে হলুদ কার্ড দেখেন এ আর্জেন্টাইন। তবে এবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
এরপর খেলার চিত্রপট পাল্টে যায়। মুহুর্মুহু আক্রমণে ফ্রান্স শিবিরে আতঙ্ক ছড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে গোলমুখ খুলছিল না। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে ৪০ মিনিটে। দূরপাল্লার বিদ্যুতগতির শটে নিশানাভেদ করেন লেফ্ট উইংগার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুদল।
দ্বিতীয়াধের্র শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে আলবিসেলেস্তেদের এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো। এর পর অ্যাটাক-কাউন্টার অ্যাটাকে জমে ওঠে খেলা। ফলে ফ্রান্সের খেলায় ফিরতেও সময় লাগেনি। ৫৭ মিনিটে লুকাস হার্নান্দেজের ক্রস থেকে অসামান্য দক্ষতায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান বেঞ্জামিন পাভার্ড।
সমতায় ফিরে আগুনে রূপ ধারণ করে ফ্রান্স। স্কিল আর গতিতে মেসিদের নাচিয়ে ছাড়েন তারা। ফলে এগিয়ে যেতেও বিলম্ব হয়নি শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধ দেশটির। আবারো লাইমলাইটে এমবাপ্পে। ৬৪ মিনিটে ঠিকানায় বল পাঠিয়ে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো লিড এনে দেন এ তরুণ।
এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ওঠে ফ্রান্স। পরক্ষণে সাঁড়াশি অভিযানে নামে দলটি। ফের গোল পেয়ে যায় তারা। ৬৮ মিনিটে অলিভিয়ের জিরুর থ্রু বল থেকে লক্ষ্যভেদ করেন সেই এমবাপ্পে। একরকম এতেই ফরাসিদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়!
তবে শেষদিকে রোমাঞ্চের আরো একটু বাকি ছিল। ইনজুরি সময়ে তৃতীয় মিনিটে ফ্রান্সের জালে বল জড়ান সার্জিও আগুয়েরো। তবে তা কেবল গোল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের হারে আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

Aviation News