দেশে আবারও আন্দোলনে নামছেন কোটা সরংস্কারপন্থীরা?

এই লেখাটি 47 বার পঠিত

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এ বছরের ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘোষণার পর আড়াই মাস পার হলেও এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, যা নিয়ে আন্দোলনকারীরা মাঝে মধ্যেই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এরই মাঝে বুধবার জাতীয় সংসদে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য নতুন করে সংশয়ের জন্ম দিয়েছে বলে দাবি আন্দালনকারীদের। ওই দিন বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ সংসদে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবি করলে এ বক্তব্যের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, ‘আমি বলে দিয়েছি থাকবে (কোটা) না। সেই থাকবে না’কে কীভাবে কার্যকর করা যায়, সে জন্য ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে এটা বাস্তবায়ন করা যায়।

তবে, আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতাকে যে, তিনি বলেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা থাকতে হবে। অবশ্যই, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজকে স্বাধীন।’

এই বক্তব্যের জেরে ২৮ জুন, বৃহস্পতিবার কোটা সংস্কারের পক্ষের শিক্ষার্থীরা একটি বৈঠক করেছেন, যেখানে পুনরায় আন্দোলন শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নুরু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকবার মিটিং করে সময় নিয়েছেন।

মন্ত্রীপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটিও এখনো গঠিত হয়নি, কোনো কাজও করেনি। তাহলে কোটা সংস্কারের কি হলো?’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা লুৎফুন্নাহার লুমা বলেন, ‘সাতই মে’র মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রায় তিনমাস হতে চলল, কোনো ঘোষণা আমরা দেখতে পাইনি।

বরং বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তার আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখন আমরা নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

শনিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান লুৎফুন্নাহার লুমা।

এরকম একটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারের কতটা সময় দরকার এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘আসলে পুরো ব্যাপারটি সরকারর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। কতদিনের মধ্যে এটি করতে হবে, কেতাবে তো এরকম কোনো ফর্মুলা লেখা নেই।

চাইলে সরকার এটি দুইদিনেও করতে পারে, আবার ছয়মাসও সময় লাগতে পারে। কোনো আইন তো নেই। এটা সরকারের ইচ্ছার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।’

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রচলিত ব্যবস্থায় ৫৬ শতাংশ আসনে কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। ১০ শতাংশ নারীদের জন্য, জেলাভিত্তিক ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্ধ রয়েছে ১ শতাংশ।

যদিও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, পুরোপুরি বাতিল নয়, কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

Aviation News