এক সপ্তাহে পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৩শ’ বাড়ি-ঘর

এই লেখাটি 33 বার পঠিত

এক সপ্তাহে পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৫ গ্রামের ৩শ’ বাড়ি-ঘর

পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ৫টি গ্রাম। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীর হয়েছে বড় বাহাদুরপুর, ছোট বাহাদুরপুর, উজানকান্দি, কদমতলী ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ৩শতাধিক বাড়ি-ঘর। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুল, এতিমখানা, মসজিদসহ অসংখ্য বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে ভাঙনকবলিত গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বড় বাহাদুরপুর, ছোট বাহাদুরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো তাদের ঘর এবং আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। অনেকেই তাদের বাড়ির আশেপাশে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকেই রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

ছোট বাহাদুরপুর গ্রামের দিনমজুর হারেজ আলী প্রামাণিক বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার উঠান নদীগর্ভে চলে গেছে। ১টি নারিকেল গাছ, ৪টি আমগাছ, ৩টি কাঠাল গাছ, ১টি জাম্বুরা গাছ এবং ১টি নিম গাছ নদীতে চলে গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি চারচালা টিনের ঘর ও দুটি ছাপড়া ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে পেরেছেন। বিকেল ৪টার মধ্যে তার ৩০ শতাংশ বড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝারে অস্থায়ীভাবে ঘর তৈরি করছেন যাতে তিনি তার স্ত্রী ও ৩ কন্যাকে নিয়ে বসবাস করতে পারেন।
তিনি বলেন, রান্না ঘর ভেঙে গেছে। এখন নতুন চুলায় রান্না করা কষ্ট হচ্ছে। টয়লেটের জন্য আরও সমস্যা হচ্ছে। এই অবস্থায় তিনি কি করবেন তা নিয়ে খুবই চিন্তিত।

ওই গ্রামের দিনমজুর ইউনুস আলী প্রামাণিক বলেন, মঙ্গলবার ভোর বেলা থেকে তার বাড়ি নদীতে ভাঙছে। তার ৭টি গাছ নদীতে চলে গেছে। তার ১টি মাত্র টিনের ঘর সড়িয়ে রাস্তার পাশে গিয়ে তুলছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবতের জীবন যাপন করছেন।
প্রেসের কর্মচারী ফরহাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন, হোটেল শ্রমিক শাজাহান মেকার, জেলে রেজ্জাক আলী, কৃষক দুলাল মোল্লাসহ ওই গ্রামের ৩০টি পরিবার গত এক সপ্তাহে তাদের বসতবাড়ি হারিয়েছেন। এভাবে ভাঙতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহে এর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন মেম্বার মো. খলিলুর রহমান বলেন, নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে আগামী ২-৩দিনে আরো ২০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন, চলতি বছরের ভাঙনে তার এলাকার কমপক্ষে ২০০ বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ না ফেলা হলে আগামী ১ সপ্তাহে আরও ২০০ বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ২৫ জুন হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের সমন্বয় কমিটির সভায় পদ্মা নদীর ভাঙনের ব্যাপারে তিনি অবহিত করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইলিয়াস মেহেদী জানান, তিনি ভাঙনের ব্যাপারে উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। ভাঙনরোধে সেখানে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করা হযেছে।

Aviation News