বকেয়া পরিশোধে বাংলাদেশ বিমানের দায়িত্বশীলতা কাম্য

এই লেখাটি 768 বার পঠিত
biman-logo

বকেয়া পরিশোধে বাংলাদেশ বিমানের দায়িত্বশীলতা কাম্য।

রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা ইতিবাচক নয়। সংস্থাটির হিসাব শাখার তথ্যও সেটি বলছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই বছর বিমান লাভ করলেও ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা লোকসান দিয়েছে বিমান। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ এক হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। বাকি তিন বছর বিমানে লাভ হয়েছে ৫৫৯ কোটি টাকা। এই ৯ বছরে সব মিলিয়ে লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছর (২০১৮-১৯) আবার মুনাফায় ফিরেছে।

টিকিট বিক্রিতে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের প্রথম ব্যাগেজ ফ্লাইট অবতরণের ১৬ মিনিটের মধ্যে এবং শেষ ব্যাগেজ ৬০ মিনিটের মধ্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত করাসহ যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিমানে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শক্তিশালী চক্রটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজšে§র উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ায় বিমানের আয় আরও বাড়বে।

সেবা ও মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় যখন সংস্থাটির প্রতি সাধারণ মানুষ বিশেষ করে যাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে। এ অবস্থায়  ‘জ্বালানি তেলের বকেয়া পরিশোধে অক্ষম বিমান!’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের হতাশ করবে।

খবরে বলা হয়, ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান জেট ফুয়েল কেনে আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল থেকে। নিয়মিত পাওনা পরিশোধ না করায় বকেয়া পাওনা বাড়তে থাকে। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পদ্মা অয়েলের পাওনা দাঁড়ায় দুই হাজার ৬৩ কোটি টাকা। বর্তমানে লাভে থাকলেও মূলধন ও দায়দেনার সংকট থাকায় বিমান এ বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

দেশে জেট ফুয়েল বিপণনকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল। বেশ কয়েকবার বৈঠক হলেও বিমান বকেয়া টাকা পরিশোধ করেনি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করে বলেছেন, আমরা বর্তমানে নগদে এ জ্বালানি কিনি। বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ আছে কি না এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

বিমান আয় থেকে ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি মনোযোগী। মূলধন থেকে দায়দেনার পরিমাণ বেশি হওয়ায় সংকট কাটাতে সময় লাগবে। কিন্তু আমরা মনে করি, নিজেদের সংকট কাটাতে আরেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে সংকটে ফেলা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কিস্তিতে বকেয়া পরিাশোধ করতে পারে। বকেয়ার অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও পরিশোধ নিয়ে বলতে পারতেন বিমানের এমডি। বিপুল বকেয়া অপরিশোধিত রেখে মুনাফা দেখানো নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

সম্পাদকী,  শেয়ার বিজ. নেট

Aviation News