কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক!

এই লেখাটি 53 বার পঠিত

আশুলিয়ায় মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়।

নিহত ওই কলেজ ছাত্রের নাম কল্যাণ সরকার হৃদয় (২০)। তিনি সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজি বিষয়ের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ও আশুলিয়ার ডেইরি ফার্ম এলাকার রতন কুমার সরকারের ছেলে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহতের মা রিতা রাণী সরকার বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ২০ জুন ওই কলেজছাত্র ও তার বন্ধুরা আশুলিয়ার স্বন্দ্বীপ এলাকায় বেড়াতে যায়। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে ওই কলেজছাত্রকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেন সাভার ডেইরি ফার্ম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস ও তার লোকজন। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় হৃদয় ও মামুন মোটরসাইকেলে ডেইরি ফার্ম থেকে নিজ বাসায় ফিরছিলেন । পথে স্বন্দ্বীপ এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন আব্দুল কুদ্দুস । এ সময় মোটরসাইকেল থেকে হৃদয় ও মামুনকে নামিয়ে তাদের দেহে তল্লাশি চালান ওই শিক্ষক।

পরে তাদের কাছে থাকা দুইটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেন তিনি। এ সময় হৃদয় এবং মামুন মোবাইল ফেরত চাইলে শিক্ষকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষকের নির্দেশে রনি (২০), নজরুল (৩৫), সুমন (২০) ও ইয়ার খানসহ (৩০) অজ্ঞাত আরও কয়েকজন লাঠিসোটা দিয়ে তাদের এলাপাথারি আঘাত করে । এ সময় মামুনের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু রোবববার সন্ধায় হৃদয় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাভার সুপার ক্লিনিক হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে দুইদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপের্টে থাকার পরে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ওই স্কুলশিক্ষক এবং তার লোকজন হৃদয়কে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে। তবে পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই শিক্ষক পরিবার নিয়ে বাড়ি ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি হচ্ছেন ডেইরি ফার্ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। গত ২০ জুন হৃদয় ও মামুন ওই এলাকায় মাদক সেবন করতে গেলে স্কুলশিক্ষক এবং কমিটির লোকজন তাদের মারধোর করে। এ ঘটনার ৩ দিন পর হৃদয় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্কুল শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, মারধোরের ঘটনায় ওই শিক্ষককে থানায় জিজ্ঞসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। তখন মামলা দায়ের না হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মারা যাওয়ার পর এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

Aviation News