মালয়েশিয়া যেতে সর্বস্ব বিক্রি করতে হচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারকে

এই লেখাটি 47 বার পঠিত

মালয়েশিয়া যেতে সর্বস্ব বিক্রি করতে হচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারকে.
মালয়েশিয়া পৌঁছাতে পরিবারের সর্বস্ব বিক্রি করতে হয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারকে। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানো শ্রমিকরা জানিয়েছেন তাদের চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গবাদি পশু, কৃষি জমি এমনকি উচ্চ সুদে টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছেন তারা।
তবে দালালের হাতে সব টাকা দেয়ার পরেও তাদের মালয়েশিয়া যেতে ৩ থেকে ৯ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
এমনকি একজন শ্রমিক বলেছেন, ‘আমি মালয়েশিয়া পৌঁছাতে পেরে খুশি তবে আমাকে এখন অনেক বেশি বেশি কাজ করতে হবে। দ্রুত ঋণের টাকা শোধ করতে হবে। কারণ, তারা সব কিছু বিক্রি করে এখানে আসার টাকা জোগাড় করে দিয়েছে। এই শ্রমিককে সব টাকা দিয়েও নয় মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে।
এদেরেই একজন ২২ বছর বয়সী শ্রমিক আমিরুল। তাকে মালয়েশিয়া পরিবারের জমি বিক্রি করে আসতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি জানি এখানে আসার খরচ উঠাতে আমাকে কয়েক বছর কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। কিন্তু আমার আর কোন উপায়ও নেই। এখানে আসতে আমার পরিবার সাহায্য করেছে। আরও ৫০ জন শ্রমিকের সঙ্গে তিনিও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর-২ এ নেমেছিলেন।
৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবুল জানিয়েছেন, তার পরিবারকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে এজেন্টের হাতে। এবং ৪ মাসের মধ্যেই তার চাকুরির ব্যবস্থা হয়েছে।
নিলাইতে কাজ পাওয়া এই শ্রমিক বলেন, আমি আশা করছি ভাল বেতনের একটি চাকুরি পাব এবং আমার পরিবারকে ঋণ শোধ করতে সাহায্য করতে পারবো।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি আদম ব্যবসায়ী আমিন উর রশীদের কোম্পানি বেসটিনেটের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ১০ টি এজেন্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর দ্বায়িত্ব পালন করছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুই দেশেই দুর্নীতি মাধ্যমে এই কাজটি করে যাচ্ছে এজেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মালয়েশিয়ায় সাবেক সরকার এই দূর্ণীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোলাম রাব্বানি নামে একজন শ্রমিক বলেছেন, ৩ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ করে শ্রমিকদের মালয়েশিয়া আসতে হচ্ছে। কিন্তু এখানে এসে দেখা যাচ্ছে বেতন খুবই কম। এখন দেখা যাচ্ছে আমাকে টানা তিন বছর কাজ করতে হবে শুধু ঋণের টাকা জোগাড় করার জন্যে।
তবে স্থানীয় ওই গণমাধ্যমকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলর সায়েদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার এই পুরো প্রক্রিয়া থেকে মাত্র ১৫০ টাকা গ্রহণ করে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের জন্যে। বেশি টাকা খরচের কারন জানাতে পারেননি তিনি।

সুত্রঃ বার্তা ২৪

Aviation News