জুলাই থেকে ই-পাসপোর্ট

এই লেখাটি 78 বার পঠিত

আগামী জুলাই থেকে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ১০ বছরে তিন কোটি ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। একাধিক পাসপোর্ট নেয়ার প্রবণতা বন্ধ করা এবং বিভিন্ন দেশে মেশিন রিড্যাবল পাসপোর্ট (এমআরপি) গ্রহণ না করার কারণেই ই-পাসপোর্ট করা হচ্ছে। অন্য দিকে নতুন করে বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের কারণে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া হাওর এলাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আগামীতে ওই সব এলাকার সড়ক হবে এলিভেটেড।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ই-পাসপোর্ট প্রকল্পটিসহ মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান। তিনি জানান, ১৫ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১১ হাজার ২২৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা দেয়া হবে সরকারের তহবিল থেকে। আর প্রকল্প সাহায্য ছয় হাজার ৫৫৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
মন্ত্রী জানান, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশে এমআরপির অনুমোদন নেই। তারা ই-পাসপোর্টের জন্য একটা সময় বেঁধে দিয়েছে। তাই এই পদপে। দেশের বাইরে থেকে ২০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই কিনে আনা হবে। দেশে তৈরি হবে দুই কোটি ৮০ লাখ। ১০ বছরের জন্য এই প্রকল্প।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জার্মানির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ‘ভেরিডোস জিএমবিএইচ’-এর কারিগরি সহায়তায় এ পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পাসপোর্টের মেয়াদ হবে যথাক্রমে ৫ ও ১০ বছর। প্রাথমিকভাবে জার্মানি থেকে তৈরি করে ২০ লাখ ই-পাসপোর্ট আনা হবে। পরে দেশে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে আরো দুই কোটি ৮০ লাখ ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। ২০১০ সালের ১ এপ্রিল এমআরপি ও এমআরভি সিস্টেম প্রবর্তন করা হয়। চালুকৃত এমআরপি ব্যবস্থায় পাসপোর্টের জালিয়াতির সম্ভাবনা এবং দশ আঙুলের ছাপ ডাটাবেজে সংরক্ষণ না থাকার সুযোগে সিস্টেমের দুর্বলতার সুযোগে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমটি চালু করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।

মন্ত্রী জানান, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য যে ১৪ শ’ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে সেটি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের সাথে য্ক্তু হবে। অতিরিক্ত ১১৬২.৬৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এই বাড়তি খরচ।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হলোÑ ৬১১.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (প্রথম সংশোধিত), ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (প্রথম পর্যায়), ৯৮.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা প্রদান, ৬৬৩.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা অঞ্চলে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, ৩৫১.৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, ১৬৭.২০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্যোগ, তিন হাজার ২৭৩.৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দণি-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ, ৯৫০.৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিডিসির আওতায় ঢাকার কাওরানবাজারে ভূগর্ভস্থ উপকেন্দ্র নির্মাণ, ৬৫২.৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে লং টার্ম সার্ভিস এগ্রিমেন্ট ফর ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প, এক হাজার ৮১৯.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লাকসাম এবং চিনকী আস্তানার মধ্যে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত), দুই হাজার ১৭৫.৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিগন্যালিংসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার সেকশনে ডাবল লাইন নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) এবং ৪৪৮.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য লজিস্টিকস ও ফিট মেইনটেন্যান্স ফ্যাসিলিটিস গড়ে তোলা।

Aviation News