লাভে নেই দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো

এই লেখাটি 3061 বার পঠিত
us-bangla-20191005201526

লাভে নেই দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো।

অতীতে চালু হওয়া বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর অধিকাংশই অব্যাহত লোকসান ও ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে নিম্নমানের যাত্রী সেবার কারণে গড়ে ওঠে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো।

বাংলাদেশে প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু ১৯৯৭ সালে। এখন পর্যন্ত মোট ১২টি প্রাইভেট এয়ারলাইন্স এলেও টিকে আছে মাত্র তিনটি। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে পারেনি বেশির ভাগ এয়ারলাইন্স। টিকে থাকা এয়ারলাইন্স তিনটির মধ্যে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও নভোএয়ার। বর্তমানে বাজারে থাকা তিনটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে এয়ারক্রাফট এবং রুটের বিবেচনায় এগিয়ে আছে ইউএস-বাংলা।

২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে যশোরে উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। নতুন যুক্ত হওয়া এটিআর ৭২-৬০০সহ বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমানবহরে মোট ১০টি এয়ারক্রাফট রয়েছে যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, তিনটি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ ও তিনটি এটিআর ৭২-৬০০।

‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। অধিকতর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই আরও একটি এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি জানান, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সকল রুটসহ আন্তর্জাতিক রুট যেমন- কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় জেট ফুয়েলের দাম বেশি হওয়া ছাড়াও ল্যান্ডিং, পার্কিং এমনকি বোর্ডিং ব্রিজ ভাড়া পর্যন্ত বেশি। এসব কারণে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনিবার্যভাবেই লোকসান দিতে হচ্ছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোকে।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বেসরকারি এয়ারলাইন্স অ্যারো বেঙ্গলকে ফ্লাইট অপারেশনের অনুমতি দেয়া হয়। তবে তারা যাত্রী পরিবহন শুরু করে ১৯৯৭ সালে। পরের বছরই এয়ারলাইন্সটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর বাংলাদেশে একে একে কাজ শুরু করে এয়ার বাংলাদেশ, জিএমজি এয়ারলাইন্স, রয়েল বেঙ্গল ও বেস্ট এয়ার। এর কোনোটি এখন আর অপারেশনে নেই। আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে তারা অপারেশন বন্ধ করে দেয়। মোট ১২টি প্রাইভেট এয়ারলাইন্স বিভিন্ন সময় অনুমোদন পেলেও দুটি এয়ার লাইন্স কখনও অপারেশনে আসেনি। ২০০৭ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ যাত্রা শুরু করে ১১টি উড়োজাহাজ নিয়ে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করেও শেষ পর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারেনি। ১১টি উড়োজাহাজের নয়টি পর্যায়ক্রমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে আরও কিছুদিন সচল থাকার পর ইউনাইটেড এয়ারওয়েজও বন্ধ হয়ে যায়।

২০১০ সাল থেকে রিজেন্ট এয়ার এবং ২০১৫ সাল থেকে নভোএয়ার অপারেশন শুরু করে। এ দুটিসহ মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান এখনও টিকে আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধ হয়েছে প্রধানত দুটি কারণে। এগুলো হলো- অব্যাহত লোকসান ও ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি। ইউনাইটেড এয়ারকে বকেয়া ৮৪ কোটি টাকা তিন বছরে তিন কিস্তিতে শোধ করতে সুযোগ দেয়ার হয় কিন্তু তারা টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমানে সুদে-আসলে সিভিল এভিয়েশনের কাছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দেনা দেড়শ কোটি টাকারও বেশি।

Aviation News