পেশাজীবীদের জন্য ভিসা সহজ করার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য

এই লেখাটি 58 বার পঠিত

যুক্তরাজ্যে পেশাজীবীদের প্রবেশ সহজ করতে চলমান অভিবাসন নীতি পরিবর্তনে পার্লামেন্টে প্রস্তাব রেখেছে দেশটির সরকার। এর ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো থেকে যাওয়া পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ কিছুটা সহজ হবে। অভিবাসন নীতি পরিবর্তন প্রসঙ্গে সরকার জানায়, তারা অভিবাসন অ্যাডভাইজরি কমিটিকে শর্টেজ অকুপেশন (যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট খাতে লোকবল কম থাকলে বাইরে থেকে শ্রমিক নেওয়ার কোটা পদ্ধতি) তালিকা পুনরায় পর্যালোচনা করতে বলবে। এতে করে ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পেশাজীবী অভিবাসী নিয়ে আসা সহজ হবে। এতে লাভবান হবেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিকরা। টায়ার-২ ভিসা সহজ করায় তারা বেশ খুশি।

এশিয়ান ক্যাটারিং ফেডারেশন ও এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইওয়ার খান বলেন, ‘এটা দারুণ খবর। কমিটিকে আমাদের বিষয়টা বিবেচনা করার আহ্বান জানাই। আমাদের রেস্টুরেন্ট শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের অভাব বোধ করছি।’ ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া ইওয়ার খান বলেন, ‘এশিয়ান রেস্টুরেন্ট শিল্প বর্তমানে দক্ষ শ্রমিকের অভাবে রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও আমরা কাউকে আনতে পারি না।’

সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রিটেনের ৬ হাজার রেস্টুরেন্টের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই ১০ বছরের মধ্যে হয়ে যাবে। আর এর কারণ হচ্ছে দক্ষ কর্মীর অভাব। শর্টেজ অকুপেশন তালিকা পর্যালোচনায় ৩০ কোটি পাউন্ডের এই রেস্টুরেন্ট শিল্পের বিষয়টি তাই মাথায় রাখা হবে।

শুক্রবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকার জানায়, ডাক্তার-নার্সরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে আসার ব্যাপারে টায়ার-২ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে মাসিক কোটা ১ হাজার ৬০০। অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রেও এটি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ম্যাথিউ ফেল বলেন, ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। আন্তর্জাতিক এই দক্ষতা প্রয়োজন। বৈশ্বিকভাবে ব্রিটিশ কর্মী তৈরি করতেও এটি জরুরি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজে অবদান কতটুকু রাখছে, সেটা খেয়াল করেই অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি।’

যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যবস্থার আরও কিছু পরিবর্তনে লাভবান হবেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। তাদের আবেদনগুলো দেখবে ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিল। আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের আওতায় এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলবে।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসনমন্ত্রী ক্যারোলিন নোকস বলেন, এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এটাই প্রকাশ পায় যে আমরা সময়ের দাবি অনুযায়ী কাজ করতে চাই। যারা আমাদের শিল্পে অবদান রাখবে তাদের নিয়ে আসতে চাই।

টায়ার-২ ভিসার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে অভিবাসী নিয়োগ দিতে পারে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠাগুলো।

ভিসার ক্ষেত্রে বার্ষিক সীমারেখা ২০ হাজার ৭০০, মাসিক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত—এই ছয় বছরে মাত্র একবার এই সীমারেখা অতিক্রম করে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেন, ‘আমি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে কয়েক মাসের চাপ দেখছি। যুক্তরাজ্যে ডাক্তার-নার্সরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য দক্ষ কর্মীদের ভিসার ব্যাপারে আলোচনা করছি আমরা। জাতীয় স্বার্থে আমাদের দাবি মেটাতে আরও সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।’

Aviation News