নিউইয়র্কে চ্যানেল আইয়ের ২১তম জন্মদিন উদযাপন

এই লেখাটি 90 বার পঠিত
নিউইয়র্কে চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে কেক কাটা হয়। ছবি: শাহ জে. চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্র অফিস: বাঙালির অহংকার, সম্মান ও মর্যাদার স্মারক গর্বের একুশ। এমন একটি অর্থবহ সংখ্যায় পদার্পণ করলো চ্যানেল আই। বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসী এবং কূটনীতিকদের মেলা বসেছিল নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের চ্যানেল আই অফিস প্রাঙ্গনে। অনুষ্ঠানটি প্রাণে প্রাণে মিশে গিয়েছিল শুভেচ্ছা আর ধন্যবাদের পালায়। কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি আয়োজকরা। বিনিময়ে দৃশ্যমান ফুলেল শুভেচ্ছাও মিলেছে চ্যানেল আই-এর।
‘হৃদয়ে বাংলাদেশ, প্রবাসেও বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর পথচলা শুরু করে চ্যানেল আই। একুশ বছরে পদার্পন উপলক্ষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান শুরু হয় সবিতা দাসের নেতৃত্বে বহ্নিশিখা’র শিল্পীদের দেশের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপরই চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি পান্থ রহমান অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে কীভাবে চ্যানেলটি বিশ্বব্যাপী বাঙালির প্রিয় চ্যানেলে পরিণত হয়েছে তা বিবৃত করেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনাও পান্থকেই করতে হয়।
DSC_5410DSC_5360জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন চ্যানেল আই-এর প্রশংসা করে বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য লালন ও বিকাশে সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট থাকায় দিনদিনই তা সকলের প্রিয় চ্যানেলে পরিণত হচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির যুগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে সর্বত্র উদ্বেগ বিরাজ করলেও এই চ্যানেলটি নিজস্ব সত্তা জিইয়ে রেখেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি টিকে থাকুক অনন্তকাল-এ কামনা ২১ বছর পূর্তি উৎসবে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এই চ্যানেলের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। সেই গতি ত্বরান্বিত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রবাসীদের সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশকে থমকে দাঁড়িয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে এবং তাতে মিডিয়ার লোকজনের সম্পৃক্ততাও পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সচেতন বাঙালিরা সোচ্চার থাকবেন বলে আশা করছি।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের হেড অব চ্যান্সেরি ও কাউন্সেলর চৌধুরী সুলতানা পারভীন বলেন, চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপি। লাল-সবুজের পতাকা বহন করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছে।
DSC_5337DSC_5254জন্মদিনে চ্যানেল আইয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) সভাপতি লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, সাপ্তাহিক বর্ণমালার প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত বাংলা চ্যানেল-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একেএম ফজলুল হক, খান’স টিউটোরিয়ালের চেয়ারপারসন নাঈমা খান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাজী এনাম, যুক্তরাষ্ট্র জাপার সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, সেক্যুলার বাংলাদেশের মুখপাত্র শুভ রায়, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, বিশিষ্ট রিয়েলটর মোর্শেদা জামান, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) সভাপতি লাবলু আনসার, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কানু দত্ত, সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ। চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত ইসলামিক টিভির সিইও মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সর্বস্তরের প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান উত্তর আমেরিকা অফিসের সিওও এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি রাশেদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সকলের আন্তরিক সহায়তায় চ্যানেল আই বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে।’
২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয়।

 

 

Aviation News