শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি চরমে

এই লেখাটি 92 বার পঠিত

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষত ঈদ উপলক্ষে এর মাত্রা বেড়ে গেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বেশি। তবে ভিআইপিরাও বাদ পড়ছেন না। পরিচয় না জানালে ভিআইপিদের লাগেজও টানাহেঁচড়া শুরু হয়ে যায়। ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একই হাল। অথচ প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছেন। বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করছেন। বছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার। এর সমপরিমাণ আসে হুন্ডিতে।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিজ দেশে ফেরত এলে বিমানবন্দরের প্রতিটি ধাপে তারা নিগৃহীত হন। এমনকি কষ্টার্জিত অর্থে স্বজনের জন্য কেনা দ্রব্যাদিও ছিনতাই হয়ে যায়। দুর্ব্যবহার দিয়ে শুরু করে ব্যাগেজ লুট, পকেটে থাকা বিদেশি মুদ্রা হাতিয়ে নেওয়া, কাস্টমসের নামে চাঁদাবাজি— সবই হচ্ছে বিমানবন্দরগুলোতে। অসহায় প্রবাসী যাত্রীরা নিরবে এসব সয়ে যাচ্ছেন।

বিমানবন্দর সূত্রমতে, সাম্প্রতিককালে বিমানবন্দরে লাগেজ চুরির ঘটনা বেড়েছে। লাগেজ কেটে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্র। এগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি অবৈধ পণ্য আনার কথা বলে থানায় আটকের হুমকিও দেওয়া হয়। কম শিক্ষিত এসব প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যাগেজ রুল সম্পর্কে ধারণা না থাকার সুবাদে চক্রটি চাঁদাবাজি করে। এমনকি যে সংস্থার যা নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই, সেই সংস্থার লোকেরাও হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকে।

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সময় হয়রানি রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও তা রোধ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৯ জুন রাতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙ্গালি দম্পতি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও তারা নিজেদের ব্যাগেজ সংগ্রহ করতে পারেননি। যাত্রী ফারুক জানান, বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কর্মীদের জানালেও তারা আমলে নেননি। এমনকি একাধিক সংস্থাকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

সূত্রমতে, এধরনের লাগেজ একটি চক্র সরিয়ে ফেলে। বিমান, কাস্টমস, ব্যাংক, সিবিএ, এয়ারলাইন্স, পরিবহন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নকর্মীদের অনেকে এই চক্রের সদস্য। এর বাইরে রয়েছে দালাল, পকেটমার এবং প্রতারক চক্র। যারা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে বিমানবন্দরে প্রতারণা করে। ফলে, যাত্রী হয়রানির স্থায়ী সুরাহা হচ্ছে না।

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বিশেষ করে শ্রমবাজারের সদস্যরা বিমানবন্দরে বেশি হয়রানির শিকার হন। নারী-পুরুষ কেউ বাদ যায় না। ওমানে বাংলাদেশি কর্মী আসমা বেগমকে তুই তোকারি করে অপমান করা হয়েছে শাহজালাল বিমানবন্দরে। যেখানে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকায় এই দেশের অর্থনীতি চলছে, তাদের অপমান বন্ধ হচ্ছে না। যা রেমিটেন্স প্রবাহেও নিরুত্সাহিত করতে পারে। দেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরে দফায় দফায় যাত্রী হয়রানি শুরু হয়। প্রথমেই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের রক্তচক্ষু। তারপরে ব্যাগেজ সংগ্রহ। এই ব্যাগেজ পেতে বিড়ম্বনা আগের চেয়ে শতগুণ বেড়েছে। ক্ষেত্রভেদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ব্যাগেজ পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। পেলেও এমনভাবে ছুড়ে ফেলা হয় যাতে ব্যাগেজের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। কখনো ব্যাগ ছিঁড়ে যায়। মালামাল পড়ে গেলে সেগুলো লুট করে নেয় বিশেষ একটি চক্র। যাত্রীরা এয়ারলাইন্সের কাছে কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। ব্যাগেজের পরের ধাপ কাস্টমস। প্রবাসীদের সম্যক ধারণা না থাকায় কাস্টমস কর্মকর্তারা যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। তল্লাশির নামে মালামাল তছনছ এবং কিছু পণ্য আটক করে তাতে শুল্ক দিতে হবে বলে আটকে রাখে। তারপর নগদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ছেড়ে দেয়। লাগেজ খুলে তারা পছন্দসই কিছু পণ্য রেখে দিতেও দ্বিধা করে না। অসহায় যাত্রীদের আর্তি—এ পরিস্থিতির কবে অবসান হবে। যে দেশের জন্য কষ্ট করে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে, সেখানে দেশে ঢুকতেই এই হয়রানি আর কত?

Aviation News