উড়ন্ত প্লেন থেকে পড়ল মলমূত্র!

এই লেখাটি 31 বার পঠিত

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের এক নারী অভিযোগ করেছেন উড়ন্ত বিমান থেকে তার গাড়ির খোলা সানরুফ দিয়ে তাদের উপর মলমূত্র পড়েছে। তিনি বলছেন, ওই মলমূত্র তিনি ও তার সন্তানের মুখের উপর পড়েছে এবং এখন দুই চোখে প্রদাহ হচ্ছে। খবর ইয়াহুর নিউজের।
ভ্যানক্যুভারে ১৫০ মাইল পূর্বে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কেলোনায় এই ঘটনা ঘটেছে। সুসান অ্যালান নামের ৫৩ বছর বয়সী ওই নারী বলেন, তিনি ও তার ২১ বছর বয়সী ছেলে ট্রাভিস সুইট সঙ্গে লাঞ্চ সেরে ফিরছিলেন। একটি সিগন্যালে অপেক্ষমাণ থাকার সময় হঠাৎ করে গন্ধযুক্ত পদার্থ অ্যালানের গাড়ির উপর পড়ে। ফলে মলমূত্রে তাদের চেহারা ঢেকে যায় এবং ওই বস্তু অন্য একটি গাড়ির উপরও পড়ে।
অ্যালানের বিশ্বাস এটি একটি বিমান থেকে পড়েছে। কেননা সিগন্যালে থাকার সময় তিনি মাথার ওপর বিমান উড়ে যেতে দেখেছেন। তিনি এবং অপর গাড়ির চালককে গাড়ি ধোয়ার স্থানে যেতে হয়েছে। তবে অ্যালান অবশ্য কেলোনা বিমানবন্দরে ফোনও করেছেন।
টরেন্টোভিত্তিক জাতীয় সংবাদ সংস্থা দ্য কানাডিয়ান প্রেসকে অ্যালান বলেন, আমি শুধু মানুষজনকে এটা জানাতে চাই যে মলমূত্রে চেহারা ঢেকে যাওয়া বিমর্ষকর এবং এটা আর কারও সঙ্গে না ঘটুক।
ট্রান্সপোর্ট কানাডা এ ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তারা জানাচ্ছে, একটি বিমান থেকে হিমায়িত মল পড়ার সম্ভাব্য ঘটনা তারা খতিয়ে দেখছেন।
আধুনিক বিমানগুলোতে ভ্যাকুয়াম টয়লেট ব্যবহার করা হয় যা বিমানের বাইরে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের নির্ভরশীল। একইসঙ্গে কেবিনে বায়ুচাপ স্বাভাবিক রাখতে একটি ভালভের সাহায্যে বিমানের পেছনের অংশে একটি ট্যাংকের মধ্যে সব বর্জ্য জমা হয়। বিমান যখন কম উচ্চতায় নেমে আসে, তখন একটি ব্লোয়ারের সাহায্যে ট্যাংকের আবর্জনা ফ্লাশ করা হয়। বর্জ্য ভালভটি বিমানের ফুয়েলেজ অংশে অবস্থিত। সেখানে বিমানবন্দরের স্থল ক্রুরা প্রবেশ করেন এবং একটি বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ওই ট্যাংক পরিষ্কার করেন।
কিন্তু মাঝে মাঝে ওই ট্যাংক বা ভালভে ছিদ্র হলে উচ্চ উচ্চতায় বিমানের বাইরে জমাটি হিমায়িত নীল রাসায়নিক এবং মানব বর্জ্যের মিশ্রণ কখনও কঠিন বা তরল অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। এর আগে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় এ ধরনের এক ঘটনা ঘটে। এক পরিবার তাদের মেয়ের ১৬ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানের সময় আকাশ থেকে মানব বর্জ্য বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে। ২০১৩ ইংল্যান্ডের একজন নারী দাবি করেন যে, একটি বিমান থেকে প্রস্রাবের একটি হিমায়িত দলা তার চলন্ত ঘরের ছাদ ফুটো করে দেয়। অস্ট্রেলিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞান বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম মিথবাস্টার এটি নিয়ে একটি পর্বও করে। সেখানে তারা নীল বরফের এই ‘মিথ’ নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।
যদিও বিমান কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনায় অন্য অপরাধীদের দিকে আঙুল তোলে।
ফেডারেল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (এফএএ) তাদের ও’হারে ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, আমরা শিকাগো ও’হারে ফ্লাইট স্যান্ডার্স ডিসট্রিক্ট অফিসেস (এফএসডিও)-এ অনেক টেলিফোন কল পাই এবং এফএএ হটলাইনে বিশেষ করে শরতে নীল পানি বা নীল বরফের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ পাই। যারা শিকাগো ও’হারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা শিকাগোর মিডওয়ে বিমানবন্দরে যাত্রাপথের নিচে বসবাস করেন তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই কল করে থাকেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিযায়ী পাখিদের দল গাছ থেকে নীল-রঙের ফল খাওয়ার কারণেই হয়তো তারা এই বর্জ্য নির্গত করছে।

Aviation News