নিজের জীবন দিয়ে প্রেমের মূল্য পরিশোধ করলো কলেজছাত্র!

এই লেখাটি 81 বার পঠিত

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অপহরণের ৬ দিন পর কামরুল ইসলাম সাগর নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে চরজব্বর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিকা’সহ ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্যচরবাটা গ্রামের হাজী মোজ্জাম্মেল হক (মুজাম হাজী)’র বাড়ির উত্তর পাশের নালা থেকে গলাকাটা অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, আজ সকাল ৯টার দিকে ফয়েজ উল্যাহ মেম্বার বাড়ির আহছান উল্যাহ গরু বাঁধতে গেলে লাশটি দেখে চরজব্বর থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এদিকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মিঠুন চন্দ্র দাশ (২৪), মমতাজ (২০), হাসিনা আক্তার (৪০) ও রফিক উল্যাহ’র ছেলে মো:মাসুদ (২৪)কে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে ২ নারীকে গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

এর আগে নিহত কামরুল এর বড় ভাই নজরুল শিমুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার সময় ৫ জনকে আসামী করে চরজব্বর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে।

থানায় দায়ের করা মামলার সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের নূর ইসলাম ফরেষ্টার এর ছেলে কামরুল ইসলাম সাগর (১৮) এর সঙ্গে একই এলাকার রহমত উল্যাহর মেয়ে স্থানীয় খাসের হাট সৈকত ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মমতাজ বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রীটির পিতা কামরুল ও তার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ও প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন সময় কামরুলকে মারধর করে। গত শুক্রবার রাত ১০ টার সময় রহমত উল্যাহর ভাড়াটিয়া মাস্তান স্থানীয় মৃত মনোরঞ্জন দাসের ছেলে মিঠুন চন্দ্র দাসের সঙ্গে সাগরের তুচ্ছ ঘটনাকে নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার রাতে সাগর তার নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। পাশের ঘরেই ছিলেন তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম শিমুল। তিনি বলেন, রাত আনুমানিক ১২টার পর সাগরের মুঠোফোনে কে বা কারা কল করে তাকে বাড়ির আঙ্গিনায় ডেকে নেয়। এরপর রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। সাগর চলতি বছর স্থানীয় চরবাটা খাসের হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে সুবর্ণচর সৈকত ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল। পরিবারের লোকজন তাকে রাতে ও সকালে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোজ করেও তার সন্ধান পায়নি। তার ব্যবহৃত ২টি মুঠোফোন ও বন্ধ ছিল।

এ ঘটনায় তিনি (ভাই) শনিবার রাতে চরজব্বর থানায় রহমত উল্যাকে , মিঠুন চন্দ্র দাস, কলেজ ছাত্রী মমতাজকে ও তার মা হাসিনা আক্তার এবং ছাত্রীটির ভাই দেলোয়ার হোসেন কিসমতকে আসামী করে চরজব্বর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে গড়িমসি করে। গত রোববার সকালে মামলার আসামী মিঠুন্ চন্দ্র দাসের শয়নকক্ষে রক্তমাখা একটি প্যান্ট ও ১টি লুঙ্গি পাওয়া যয়।

খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) একেএম জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রক্তমাখা কাপড়চোপড় জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে চরজব্বর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ কামরুলের প্রেমিকা কলেজ ছাত্রী মমতাজ ও তার মা হাসিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। মমতাজের বাবা রহমত উল্যা শনিবার থেকে পলাতক রয়েছে।

সাগরের বড় ভাই নজরুল বলেন, সাগরের সাথে মমতাজের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর মমতাজের বাবা রহমত উল্যা কামরুলকে একাধিকবার মারধর করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুমেরও হুমকি দিয়েছিল। নজরুলের দাবী, রহমত উল্যা ও তার ভাড়াটিয়া মাস্তান সাগরকে অপহরণ শেষে হত্যা করে লাশ নালায় ফেলে দিয়েছে। তিনি হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করেছেন।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: নিজাম উদ্দিন জানান, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অপহরণের ৬দিনপর চরবাটা ইউনিয়নের হাজী মোজমেল হক এর বাড়ির উত্তর পাশের নালা থেকে কামরুল ইসলাম সাগরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছি। তদন্ত করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Aviation News