প্রবাসী আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি

এই লেখাটি 83 বার পঠিত

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনশক্তি রফতানিকারক দেশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমশক্তি রফতানির হার বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে প্রবাসী আয়ও। বিগত দুই বছর নেতিবাচক ধারার পরে চলতি বছরে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে প্রবাসী আয়ে ১৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮’র তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক লাখ ১০ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক লাখ ১৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠায় প্রবাসীরা। এ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় সাত দশমিক ৭০ শতাংশ। এরপর ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বাড়ার পরিবর্তে উল্টো কমতে থাকে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৯ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসে, যেখানে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ছিল দুই দশমিক ৫২ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে এক লাখ এক হাজার ৯৯ কোটি টাকার। সে বছর ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরপরে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে গত অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য চার শতাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০৯ হাজার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জনশক্তি রফতানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬১ হাজার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জনশক্তি রফতানি হয় ৬৮৫ হাজার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৯০৫ হাজারে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগের কারণে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফেরে। চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা একক মাস হিসেবে গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং আসন্ন ঈদের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণ রেমিট্যান্স বাড়ে। কেননা, ঈদের আগে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের কাছে টাকা পাঠায়। এছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণও উল্লেখযোগ্য। ডলারের দাম বাড়ার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি টাকা পাচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮’র তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্স জিডিপি ও রফতানির শতকরা হার হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স জিডিপি ও পণ্য রফতানি আয়ের শতকরা হার হ্রাস পায়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে জিডিপি ও মোট পণ্য রফতানির শতকরা হারে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে আট দশমিক ৬৪ শতাংশ ও ৫৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ জিডিপির প্রায় পাঁচ দশমিক ১১ শতাংশে এবং মোট পণ্য রফতানির ৩৬ দশমিক ৮৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রবাসী জনশক্তির অধিকাংশই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত। এছাড়া বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, লেবানন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুণাই, মরিসাস, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও ইতালিসহ অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশি জনশক্তি কর্মরত রয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মোট জনশক্তি রফতানি পর্যালোচনা করেলে দেখা যায় যে, গড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি জনশক্তি রফতানি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে।
মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। বর্তমানে এ অঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শ্রমিকদের চাহিদা হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ অঞ্চলে শ্রমশক্তি রফতানিতে বাংলাদেশকে বেশ কিছুটা সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য দেশে নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমবাজার সম্প্রসারণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা শ্রমবাজার গবেষণা সেল গঠন করা হয়েছে।

Aviation News