বিমানে বিলাসবহুল ‘হাওয়াই আড্ডা’

এই লেখাটি 29 বার পঠিত

বিশ্বের অদ্ভুত সব রেস্তোরাঁর কথা শোনা যায়। এর মধ্যে ভাসমান রেস্তোরাঁ, সাগর তলে রেস্তোরাঁ-এমন সব বিচিত্র হোটেলের কথা তো কম-বেশ সবাই জানে। তবে বিমানের ভেতরে চেয়ার-টেবিল পেতে রেস্তোরাঁর আমেজে খাওয়া- দাওয়ার কথা খুবই কম শোনা যায়। তেমনি রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাবে।

এই বিমান কিন্তু আকাশে ওড়ে না। এ রেস্তোরাঁর উদ্যোক্তা চার চাচাত ভাই। তারা এক সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দিল্লির একটি ট্রেনের ভেতর বিলাসবহুল খাবারের আয়োজন দেখেই বিমানে রেস্তোরাঁ খোলার ব্যাপারে চিন্তা আসে তাদের। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার ফিরোজপুরে এই রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছে। এটি ভারতের প্রথম বিমান রেস্তোরাঁ। পাঞ্জাবের ওই রেস্তোরাঁর নাম ‘হাওয়াই আড্ডা’।

দীর্ঘ যাত্রা পথে দুপুর বা রাতের খাবারও বিমান থেকে সরবরাহ করা হয়। তবে বিমানে বসে একদম রেস্তোরাঁর মতো খাবার দাবার জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন লুধিয়ানার চার বাসিন্দা। আস্ত বিমানের মধ্যেই তারা খুলে বসেছেন রেস্তোরাঁ।

গত বছরের শেষের দিকে সব আইনি জটিলতা কাটিয়ে রেস্তোরাঁটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এটি। এরপরই অভিনব ‘হাওয়াই আড্ডা’ দলে আসছেন স্থানীয় লোকজন। ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষও। এই বিমানে বসে লোকজন খাবারের অর্ডার করলেই চলে আসছে মজাদার সব খাবার। ১৮০ আসনের এ৩২০ মডেলের অচল একটি এয়ারবাসকে সাজিয়ে গুছিয়ে বানানো হয়েছে একটি আধুনিক রুচিশীল রেস্তোরাঁ। এই রেস্তোরাঁয় আছে ক্যাফে, বেকারি এবং কিটি হলের সুবিধা।

ব্যবসায়ী পরম প্রীত সিং লুথরা হলেন এ ‘হাওয়াই আড্ডা’র মূল উদ্যোক্তা। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও তিন চাচাত ভাই। এছাড়া প্রীত সিং বলেন, ‘আমরা দিল্লির মহারাজা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতর বিলাসবহুল খাদ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছি। মহারাজা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বিমানের ভেতর এমন একটি রেস্তোরাঁ করতে চেয়েছিলাম।’

জানা গেছে, কুলওয়ান্ত সিং নামের এক ব্যক্তির কাজ থেকে মাসে এক লাখ রুপির বিনিময়ে বিমান রাখার জায়গাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। জশবিন্দর সিং নামে কুলওয়ান্তের এক মামাত ভাইও এ রেস্তোরাঁর উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, আস্ত একটা বিমানকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।

Aviation News