৯ বছরেও উন্নয়ন হয়নি কক্সবাজার বিমানবন্দরের

এই লেখাটি 46 বার পঠিত

গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। সময় বাড়ার সাথে ব্যয় বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ তিন বছরে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু আজ ছয় বছর ধরে প্রকল্পটি চলছে। চীনের অর্থায়নের জন্য দেনদরবার করতেই দুই বছর পার। অথচ পাওয়া গেল না তাদের অর্থায়ন। আর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতেই পাঁচ বছর অতিক্রম। ফলে তিন শ’ দুই কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি এখন দুই হাজার ১৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬১ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন শ’ দুই কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ২০০৯ সালে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয় ২০১২ সালের জুনে সমাপ্ত করার জন্য। কিন্তু সেটার টেন্ডার কার্যক্রম শেষ করে কার্যাদেশ দিতেই চলে গেছে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়। দরপত্র আহ্বানের পর ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দরপত্রটি বাতিল করে এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত হয়। পুনঃদরপত্র আহ্বানের সময় চীন সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় দুই বছর আলোচনা-পর্যালোচনা চলে। কিন্তু চীন সরকারের অর্থায়ন না পাওয়ায় প্রকল্পটি নিজের টাকায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৫ সালের ৬ মে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাল্লামাহ সিওকওয়াং জেভির অনুকূলে কার্যাদেশ দেয়া হয়। সাথে আছে মীর আকতার হোসেন লিমিটেড (বাংলাদেশ) এবং সিওকওয়াং লিমিটেড (কোরিয়া) জেভি। তার আগে ২০১২ সালে প্রকল্পটি সংশোধন করে ব্যয় বাড়ানো হয় ৫৪৯ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকায়। আর সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত নেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানো হয় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় এক হাজার ১৯৩ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালের ২ জুলাই এক হাজার ১৯৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট টাকা বিমানবন্দরের উন্নয়নে ব্যয় হবে। প্রকল্প অনুযায়ী, বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট, প্রস্থ ১৫০ মিটার থেকে ২০০ মিটার করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান শুধু দিনের বেলায় অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারে। রাতে বিমান ওঠানামার জন্য কোনো ধরনের লাইটিং ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি নেই।
আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ বিমানবন্দরে ভিওআর, ডিএমই, ৯০০ মিটার অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে, যাতে দিনের মতো রাতেও বিমান অবতরণ করতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির এসব যন্ত্রপাতি ফ্রান্স, জার্মানি এবং লাইটিং সিস্টেমের সর্বশেষ প্রযুক্তি ইতালি থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ফায়ার ফাইটিং ভেহিক্যাল কেনা হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে, আট হাজার ৩৯০ বর্গমিটার নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ। তবে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এখনো নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। প্রকল্পের জন্য ১১২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার সুরক্ষা বাঁধ ও এলজিইডির ৫৯৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ কাজ রয়েছে। এখানে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ৪৮৪ কোটি ৬৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তব অগ্রগতি ৯ বছরে ৪৭.৬৩ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশনের কাছে তৃতীয় দফায় সংশোধনী প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় দাড়াবে দুই হাজার ১৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬১ হাজার টাকায়। মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিছু খাস জমি সিএএবি এর অনকূলে বন্দোবস্ত দেয়ার প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন আছে। ভূমি উন্নয়নে ২০ কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা বাড়তি লাগছে। সিএএবির কাজ ২০১৮ সালের জুনে, বিডব্লিউডিবির কাজ ২০১৯ সালের জুনে এবং এলজিইডির ব্রিজ নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে।

Aviation News