বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের ছাড়পত্র প্রদানে কঠোর হচ্ছে সরকার

এই লেখাটি 74 বার পঠিত

বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের ছাড়পত্র প্রদানে কঠোর হচ্ছে সরকার।
প্রবাসজীবনের প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে গত মে মাসে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন সেলিনা বেগম। তার বয়স এখন ১৮। কিন্তু গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ২৬ বছর বয়স দেখিয়ে পাসপোর্ট করা হয় তার। যদিও গৃহকর্মী পেশায় দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ২৬ হওয়া বাধ্যতামূলক।
গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশগামী নারী কর্মীর ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার নেয়ার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য বয়স বাড়িয়ে পাসপোর্ট করা, গৃহকর্মের প্রশিক্ষণ না নিয়ে সনদ জোগাড়সহ প্রতারণা ঠেকাতে মূলত এ উদ্যোগ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহস্থালি কাজে নারী কর্মীদের বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। হংকং ও সিঙ্গাপুরের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণী অথবা এসএসসি পাস। এছাড়া গৃহকর্মের প্রশিক্ষণ সনদ থাকতে হয়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোয় এসব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও বয়স কম-বেশি দেখানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ না দিয়েই নারী কর্মীদের জন্য বিদেশগমনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।
বিএমইটির বহির্গমন ও প্রটোকল বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে গিয়ে নারী কর্মীদের নির্যাতিত ও প্রতারিত হয়ে ফিরে আসার বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশগমনেচ্ছু নারীদের ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে আরো যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারের পর নারী কর্মীদের ছাড়পত্র দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ১০০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। যদি মনে হয়, কোনো কর্মীর বয়স বেশি বা কম দেখানো হয়েছে অথবা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পায়নি, সেক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেয়া হবে না।
বিএমইটির হিসাবে, চলতি বছর প্রথম তিন মাসেও সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছেন ২১ হাজার ৬১০ জন নারী শ্রমিক। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৭৭, ওমানে ২ হাজার ৬৭৯, কাতারে ৮৭২, জর্ডানে ২ হাজার ২৬১ ও লেবাননে গেছেন ৪৩৭ জন।
বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছেন মোট ৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৩৬ জন নারী শ্রমিক। এর মধ্যে ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ গেছেন সৌদি আরবে। বাকিদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে, ১৮ দশমিক ২৩ জর্ডানে, ১৪ দশমিক ৪৪ লেবানন ও ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ ওমানে গেছেন।

সুত্রঃ বণিক বার্তা

Aviation News