দীর্ঘ বিরতিহীন ৩ বিমান রুট

এই লেখাটি 48 বার পঠিত

সারা পৃথিবীতে বর্তমানে সবচেয়ে দীর্ঘ ফ্লাইট চলছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে কাতারের দোহা পর্যন্ত। সাড়ে ১৭ ঘণ্টার এ ফ্লাইট পরিচালনা করে কাতার এয়ারওয়েজ। এর পরেই দীর্ঘতম ফ্লাইট হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে লন্ডন পর্যন্ত। ১৭ ঘণ্টার এ ফ্লাইট পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারলাইন্স।

অবশ্য এবার কাতার এবং কোয়ান্টাসকে পেছনে ফেলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স হবে পৃথিবীর একটানা দীর্ঘ পথের এয়ারলাইন্স। এমনটাই দাবি করছে বিমান পরিবহন সংস্থাটি। অক্টোবর মাস থেকে সিঙ্গাপুর থেকে আমেরিকার নিউজার্সিতে এই ফ্লাইট চলাচল করবে। কোনো বিরতি ছাড়াই একটানা ১৯ ঘণ্টা আকাশে উড়বে এ ফ্লাইট।

২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুর থেকে নিউজার্সি ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তেলের দাম বেড়ে যাবার কারণে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কারণ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এয়ারবাস এ৩৪০-৫০০ মডেলের যে বিমান ব্যবহার করে, সেটি পরিচালনা করতে প্রচুর জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে এ ফ্লাইট খুবই ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এ৩৫০-৯০০ বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। ছবি: সংগৃহীত

কী পরিবর্তন এসেছে

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স নতুন কিছু এয়ারবাস ক্রয় করেছে, যা পুরনো বোয়িং ৭৭৭ মডেলের বিমানের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করবে। ফলে বিরতিহীন এ ফ্লাইট পরিচালনার খরচ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে।

এয়ারবাসের এ৩৫০-৯০০ মডেলের বিমানে দুটো ইঞ্জিন আছে। তৈরি করা হয়েছে বিরতিহীন দীর্ঘ ফ্লাইটের জন্য।

সিঙ্গাপুরে এয়ারবাসের মুখপাত্র সিন লি বলেছেন, ‘নতুন মডেলের এয়ারবাস বর্তমানে পৃথিবীর অন্য যেকোনো বিমানের তুলনায় বেশি সময় ধরে একটানা উড়তে পারে।

এ বিমান একটানা ৯৭০০ নটিক্যাল মাইল উড়তে পারে, যার অর্থ হচ্ছে একটানা ২০ ঘণ্টার বেশি আকাশে থাকতে পারবে। কারণ নতুন মডেলের বিমানে জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তনের ফলে এখন অতিরিক্ত ২৪ হাজার লিটার তেল বহন করা সম্ভব হয়।’

এয়ারবাসের এ৩৫০-৯০০ বিমানের ভেতরটা এ রকম থাকবে। ছবি: সংগৃহীত

এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ মডেলের বিমানটিতে কোনো ইকোনমি ক্লাস নেই। আছে শুধু বিজনেস ক্লাস এবং প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এই বিমানে ১৬১ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।

এর মধ্যে ৬৭টি আসন বিজনেস ক্লাসের এবং ৯৪টি আসন প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসের।

ফ্লাইট গ্লোবাল নামে একটি অনলাইন ম্যাগাজিনের প্রতিবেদক এলিস টেলর বলেন, ‘যদি ইকোনমি ক্লাস থাকত, তাহলে আরও বেশি যাত্রী পরিবহন করা হতো। ফলে বিমানে ওজন বেড়ে যেত।’

টেলর বলেন, ‘সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এটা পরিষ্কার করেই বলেছে যে, এটা প্রিমিয়াম সার্ভিস এবং এখানকার ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হবে।’

অবশ্য ভাড়া বেশি হলেও যাত্রী পেতে সমস্যা হবে না বলে মনে করেন প্রতিবেদক এলিস টেলর।

অস্ট্রেলিয়ার বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার পার্থ থেকে লন্ডন চলাচল করছে। ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এর আগে যখন এ ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল তখন বোঝা যাচ্ছিল যে, আমেরিকা থেকে সিঙ্গাপুরে বিরতিহীন ফ্লাইটের চাহিদা আছে। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে এবং বাজার বিস্তৃত হয়েছে।

যাত্রীরা কী পরিবর্তন লক্ষ্য করবে

পুরনো বিমানের তুলনায় নতুন মডেলের বিমানে ছাদ উঁচু, জানালাগুলো বড় এবং বিমানের ভেতরে লাইটিং ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণে ক্লান্তি না আসে।

বিমানের ভেতরে আরামদায়ক করার জন্য ভাড়াও গুনতে হবে বেশি। প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ১ হাজার ৬৪৯ মার্কিন ডলার। সাধারণ বিজনেস ক্লাসের ভাড়ার তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ।

অনেক যাত্রী আছেন, যারা বিরতিহীন ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন।

ভবিষ্যতে কী আসছে

এয়ারবাস এবং বোয়িং বর্তমানে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, যেটির নাম কোয়ান্টাস সানরাইজ। এ প্রকল্পের আওতায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাসকে একটি বিমান সরবরাহ করা হবে, যেখানে সিডনি-লন্ডন অথবা নিউইয়র্ক-সিডনি রুটে বিরতিহীন ফ্লাইটে ৩০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

এয়ারবাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের তৈরি নতুন বিমানে ঘুমানোর জন্য একটির উপর আরেকটি বিছানা থাকবে। অনেকটা ট্রেনের মতো। এমনকি কার্গো এরিয়াকে একটি কনফারেন্স রুমে রূপান্তর করা যাবে, অথবা বাচ্চাদের খেলাধুলার জায়গাও বানানো যাবে।

ভবিষ্যতে দীর্ঘ ফ্লাইটের জন্য বিমানের ভেতরে এ ধরনের সুবিধা দেবার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এয়ারবাস। ছবি: সংগৃহীত

অকল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কে যাতায়াতের জন্য এয়ার নিউজিল্যান্ড একটি বিমান ক্রয় করতে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সে রুটে চলাচল করতে কত সময় লাগবে? অতি দীর্ঘ রুটের চেয়ে সেটি কি আরও দীর্ঘ হবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, পৃথিবীতে কোনো বিমান রুট বিরতিহীনভাবে ২১ ঘণ্টার বেশি হবে না।

কারণ পৃথিবীর সর্বোচ্চ দূরত্বের দুটি জায়গা অনেকটাই এ রুটের আওতায় চলে আসবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Aviation News