সিগারেটের ওপর কর আরও বাড়ল

এই লেখাটি 72 বার পঠিত

ধূমপান ছাড়ুন, নইলে খরচ বাড়বে। প্রতি বছর ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে এবং কর আদায় বাড়াতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিড়ি-সিগারেটের ওপর কর বাড়ান, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রস্তাবিত বাজেটে বড় লোকের দামি সিগারেটকে কিছুটা রেহাই দিয়ে গরিবের সিগারেটের ওপর বেশি কর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি করারোপ করেছেন পান-রসিকদের জর্দার ওপর। সঙ্গে সস্তার তামাক গুলও আছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা, এর সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমানে নিম্নস্তরের মূল্য ২৭ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫২ শতাংশ আছে। বর্ধিত করারোপের ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম প্রতি শলাকা ৫০ পয়সা বাড়তে পারে।

মধ্যস্তরের সিগারেটের মূল্য ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চস্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়নি। ৬৫ শতাংশে অপরিবর্তিত আছে। তবে মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ১০ শলাকার দাম ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বড় লোকের দামি সিগারেটের চেয়ে গরিবের সিগারেটের ওপরেই প্রস্তাবিত বাজেটে বেশি করারোপ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এফসিটিসিতে স্বাক্ষরকারী দেশ। বিশ্বব্যাপী ধূমপানবিরোধী রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান, তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মতো সমতা বিধান এ খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মূল্যসীমা-নির্বিশেষে একক করহার নির্ধারণের লক্ষ্যে মূল্যস্তর কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে মূল্যসীমা-নির্বিশেষে একক করহার নির্ধারণের লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ফিল্টারযুক্ত বিড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে ফিল্টারবিহীন বিড়ির দাম। ১০ শলাকার ফিল্টারযুক্ত বিড়ির মূল্য ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ টাকা এবং ২০ শলাকার বিড়ি ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ আগামীতে ফিল্টারযুক্ত বিড়ি বেশি দাম দিয়ে কিনে খেতে হবে ধূমপায়ীদের।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বিড়ির ভয়াবহতা সিগারেটের চেয়ে বেশি। বর্তমান আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে বিড়ির ব্যবহারকারী কমে যাচ্ছে। বর্তমানে এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যাও আগের তুলনায় কম। এ দেশ থেকে তামাক নিঃশেষ করার সীমানা প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিড়ির উৎপাদন ২০৩০ সালে ও সিগারেটের উৎপাদন ২০৪০ সালে নিঃশেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে পান রসিকদের জন্য দুঃসংবাদ আছে। যারা খাবারের পর তৃপ্তি নিয়ে পান খান তাদের খরচ বাড়বে। সিগারেটের মতো পানের স্বাদবর্ধক জর্দার মূল্য বেঁধে দেয়া হয়েছে। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ২৫ টাকা বেঁধে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ আগামীতে এ দামের নিচে আর জর্দা পাওয়া যাবে না। গুলের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০ গ্রাম ওজনের গুল কিনতে হবে ২৫ টাকায়।

এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিড়ি-সিগারেটের মতো ভয়াবহ আরেকটি পণ্য হলো জর্দা ও গুল। এগুলোর ব্যবহার সরাসরি হওয়ায় শরীরের ওপর এর বিরূপ প্রভাব বেশি। তাই শুল্ককরের আপাতত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাজেটে জর্দা-গুলের ওজনভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এতে জর্দা-গুলের দাম যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

Aviation News