হজের সময় চার গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ রাখবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

এই লেখাটি 81 বার পঠিত

হজ ফ্লাইট ঠিক রাখার জন্য ওই সময়ে অন্তত চারটি নিয়মিত গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এই চারটি গন্তব্য হচ্ছে কুয়েত, দাম্মাম, দোহা ও রিয়াদ। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এসব গন্তব্যের বিমানের যাত্রীদের এই সময় অন্য বিমান সংস্থায় যাতায়াত করতে হবে অথবা যাত্রা পেছাতে হবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট সূচি কাটছাঁট বা ছোট উড়োজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

বিমানের ফ্লাইট পরিচালন ও পরিকল্পনা শাখার একাধিক সূত্র জানায়, বিমানের বহরে এখন ১২টি উড়োজাহাজ আছে। অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে চলে দুটি ড্যাশ-৮। বাকি ১০টি উড়োজাহাজ দিয়ে ১৫টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালানো হয়। হজ ফ্লাইটের জন্য স্বল্প মেয়াদে আলাদা উড়োজাহাজ ভাড়া করার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো সেটা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে এখন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে চলাচলকারী চারটি উড়োজাহাজ দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে সংকটে পড়েছে বিমান।

সূত্র জানায়, বিমান এ অবস্থায় উল্লিখিত চারটি গন্তব্যের জন্য কোনো উড়োজাহাজ বরাদ্দ দিতে পারছে না। ফলে ১৪ জুলাই থেকে প্রাক্-হজ ফ্লাইট চলার সময় এসব গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ ছাড়া দুবাই ও কুয়ালালামপুরের মতো ব্যস্ত গন্তব্যে ৪১৯ বা ৪০৬ আসনের স্থলে ১৬২ আসনের উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। বিমানের বিপণন ও বিক্রয় শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আশরাফুল আলম কাছে চারটি গন্তব্যে হজের সময় ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, হজ ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে হজের সময় কোন কোন গন্তব্যে যাত্রীর চাপ কম থাকে, সেটা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

দুই সপ্তাহ আগে বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছিল, দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতির কথা জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

যাত্রী কমে গেছে এখনই
শুধু তা-ই নয়, হজের সময় ফ্লাইট সূচি ঠিক থাকবে কি থাকবে না-এই শঙ্কা থেকে ঈদের মৌসুমেও মধ্যপ্রাচ্য ও লন্ডন ফ্লাইটে যাত্রী পাচ্ছে না। এসব গন্তব্য থেকে অর্ধেক বা তারও কম যাত্রী নিয়ে আসছে বিমানের ফ্লাইটগুলো। কারণ, অনেকেরই ফিরতি যাত্রার সময় হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিমানের বিপণন ও বিক্রয় শাখার পরিচালক আশরাফুল আলম দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে এবং অনেকে ভয় পান, দেশে এলে আবার ওই দেশে ফিরতে পারবেন কি না। এ কারণে এই ঈদে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মানুষ কম আসছে। আর লন্ডন ফ্লাইটে যাত্রীর চাপ ভালো আছে।

বাস্তবে গতকাল বিকেল চারটায় অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, আজ ৬ জুন ৪১৯ আসনের ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটে টিকিট বিক্রি হয়েছে ১৬৯ টি। আর ফিরতি ফ্লাইট লন্ডন-ঢাকায় ২১৯ আসনই খালি। একইভাবে আগামী ৯ জুনের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় ২৭৫ ও ফেরার সময় ১৭৮ আসন খালি। আবার, বিক্রীত টিকিটের অধিকাংশই সাশ্রয়ী মূল্যের। অর্থাৎ সর্বোচ্চ কম দামে দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে পারছে না বিমান।

বিমান ১৪ জুলাই থেকে প্রাক্-হজ ফ্লাইট শুরু করবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, হজ ফ্লাইটের জন্য বিমানের নিজস্ব তিনটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর (প্রতিটি ৪১৯ আসনের) ও আগে থেকে নিয়মিত ফ্লাইটের জন্য ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ (৪০০ আসনের) উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে। এবার বিমান ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী বহন করবে, যা মোট বাংলাদেশি হজযাত্রীর অর্ধেক। এ ছাড়া বিমান ১ হাজার ২০০ জন সরকারি প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী বহন করবে। হজের আগে ১৪ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৫৫টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এর মধ্যে আটটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সরাসরি মদিনা যাবে, বাকিগুলো জেদ্দায়। আর ২৭ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।

প্রথম আলো

Aviation News