শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজের পার্কিং বাড়ছে

এই লেখাটি 96 বার পঠিত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পার্কিং করার অ্যাপ্রোন বা এরিয়া সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এপ্রোনে চারটি যাত্রীবাহী ও দুটি কার্গো উড়োজাহাজের পার্কিং সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৭৩ হাজার ৫৪৮ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ হবে। এজন্য লাগছে ১৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৯০০ টাকা। এ কাজ করবে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। এরই মধ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটিতে অনুমোদন দিয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। এ বিমানবন্দরে যাত্রী ও বিমান চলাচলের হার বাড়ছে। ডিসি-১০, বোয়িং-৭৭৭, এয়ারবাস, বোয়িং-৭৪৭, এফ-২৮ উড়োজাহাজের মতো সুপরিসর উড়োজাহাজ এ বিমানবন্দরে চলাচল করে। কিন্তু এ ধরনের ভারি বিমানগুলোর মুভমেন্ট ও পার্কিংয়ের জন্য বর্তমানে থাকা অ্যাপ্রোনসহ ট্টাফিক মুভমেন্ট এরিয়া বিমানবন্দরে অপ্রতুল। এছাড়া ২০১৬ সালে নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনে বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপরই সরকারের সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা ও কার্গো বিমানের নিরাপদ পার্কিং ও হ্যান্ডলিংয়ে নজর দেন তারা। শাহজালালের অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প ২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুমোদন করে একনেক। আগামী বছরের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজালালের অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণের জন্য ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই বছরের মে মাসে দরপত্র জমা নেয়া হয়। এতে আটটি কোম্পানি অংশ নেন। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানিকে নন রেসপনসিভ করা হয়। তবে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়। দরপত্রে নন- রেসপনসিভ হওয়া কোম্পানি সিপিটিইউ’র রিভিউ প্যানেলে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় দরপত্র প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা কমিটিতে আসে এবং তা অনুমোদন পায়। বেবিচকের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, শাহজালালের কার্গো অ্যাপ্রোনের পরিসর প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। জায়গার স্বল্পতায় বিমান ও পণ্যের নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠেছে। তাই এটি সমপ্রসারণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের কার্গো অব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রায়ই নিজেদের আমদানি বা রপ্তানি পণ্য খোয়া যাওয়া নিয়ে নালিশ করতে দেখা যায় তাদের। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিরা প্রশ্ন তুললে সবার তখনই টনক নড়ে।
এ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয় কয়েকটি দেশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ নেয় সরকার। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, কার্গো বিমান পার্কিংয়ের জায়গা কম, পণ্য রাখার জায়গা কম, কার্গো শেড থেকে হ্যান্ডলিং এরিয়ার দূরত্ব বেশিসহ বিভিন্ন কারণে বিমান ও আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে। এ কারণে প্রথমে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর কিছুদিন পর একই পথে হাটে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোতেও অঘোষিত বিধিনিষেধ আসে। বেবিচক সূত্র মতে, দরপত্র অনুযায়ী শাহজালালের এক্সপোর্ট অ্যাপ্রোন উত্তরদিকে সমপ্রসারণ করা হবে। প্রথমে ২০১৮ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখন নতুন করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

Aviation News