সোনা চোরাচালান চক্রে উড়োজাহাজের কেবিন ক্রুরা

এই লেখাটি 375 বার পঠিত
apbn-cabin-crew-collected-1567670967298

সোনা চোরাচালান চক্রে উড়োজাহাজের কেবিন ক্রুরা।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালানী চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের কেবিন ক্রুরা। লাগেজ এবং দেহ তল্লাসীতে শিথিলতার সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সোনা বহন করে নিয়ে আসছে এসব কেবিন ক্রু। আর প্রতি কেজি সোনা বহন করে আনার বিনিময়ে প্রত্যেক কেবিন ক্রু এক থেকে দেড়লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। আর এই সোনা চোরাচালানের সাথে দেশীয় কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সিরও সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গোয়েন্দা অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ জানান, গদ ১৮ মার্চ জেদ্দা থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওই বিমানের কেবিন ক্রু সাইমা আক্তার (৪০) ও ফারজানা আফরোজ (৩২) বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে, তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ বহন করার কথা স্বীকার করেন। পরে ফারজানার কাছ থেকে ১০টি এবং সাইমার কাছ থেকে ২৬টি বার উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ৪ কেজি ১৯০ গ্রাম।

রেজাউল মাসুদ আরো জানান, ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গোপন তথ্য ছিল স্বর্ণ আসছে। তাই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ক্রুদের বহনকৃত এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তথ্য না থাকলে ক্রুদের বেশিরভাগ সময় ব্যাগ চেক করা হতো না, শরীর তল্লাশি করা হতো একেবারেই কম। একসঙ্গে অনেক যাত্রী বিমান থেকে নামলে তাদের শরীর চেক করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগ নিতে কিছু কেবিন ক্রু অনেকদিন যাবত নিয়মিত স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছিল।

কিছু ট্রাভেল এজেন্সি কেবিন ক্রুদের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সোনা চোরাচালান করছে বলে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদবলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিমানের ক্রুরা এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন।

পিবিআই তাদের অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে আন্তর্জাতিক ও দেশি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সোনাগুলো বাংলাদেশে ঢুকেছে। বিমানের ক্রুদের ব্যবহার করছে এই সিন্ডিকেট। প্রতি কেজি সোনা বহনে কেবিন ক্রু এক থেকে দেড় লাখ টাকা পান বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমীকে (২৪) ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেপ্তার করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মেট্রো পিবিআই। স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ে পিবিআই’র অনুসন্ধান প্রসঙ্গে পিবিআই পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, গত কয়েক মাসের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সোনাচোরাচালানের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের কর্মকর্তাসহ সন্দেহভাজন কেবিন ক্রুদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তারা।

সুত্রঃ রাইজিংবিডিডটকম

Aviation News