পদত্যাগ করছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা

এই লেখাটি 44 বার পঠিত

থানা ও ওয়ার্ডের নতুন কমিটিতে পদ পেতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নির্বাহী কমিটির অর্ধশতাধিক নেতা পদত্যাগ করছেন।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি মেনে থানা ও ওয়ার্ডে নতুন কমিটি হচ্ছে। এতে এক নেতা দুই পদে থাকতে পারছেন না। থানা ও ওয়ার্ডের সঙ্গে মহানগর দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত।

ঈদের আগে যে কোনো সময় এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ক্লিন ইমেজ- এমন নেতাদের দিয়েই কমিটি হচ্ছে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটি প্রায় চূড়ান্ত। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি প্রায় চূড়ান্ত। যে কোনো সময় কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ৭০ সদস্যের কমিটি দেয়া হয়।

একইভাবে এমএ কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে উত্তর শাখায় ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সূত্র জানায়, আন্দোলন সফল করতে ঢাকা মহানগরকে আগে ঢেলে সাজাতে হবে- কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিক জেলা সফরে গেলে এমন মতামত দেন তৃণমূল নেতারা। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে রমজানের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং সব থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকমান্ড। নির্দেশনা পেয়ে রমজানের শুরু থেকেই সব থানা ও ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেন উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা। এ নিয়ে মহানগরের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। দুই শাখারই থানা ও ওয়ার্ড কমিটি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে কমিটির চূড়ান্ত তালিকা লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হবে। তিনি অনুমোদন দিলে চূড়ান্তভাবে দুই শাখার নির্বাহী কমিটি, থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ পদের সম্ভাব্য একটি করে তালিকা নিয়েছেন মহানগরের দুই শাখার নেতারা।

কোনো কোনো থানা থেকে তিনটি তালিকাও পেয়েছেন তারা। সেগুলো তারা যাচাই-বাছাই করে কমিটি প্রায় চূড়ান্ত করেছেন। এক্ষেত্রে তালিকায় থাকা থানা ও ওয়ার্ডগুলোয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশিরভাগই মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্যরা রয়েছেন।

সূত্র জানায়, ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি অনুসরণে মহানগর নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে হাইকমান্ড, যা নির্বাহী কমিটির সদস্যদের জানানো হলে অর্ধশতাধিক নেতা তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করে থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাহী কমিটির ২৫ জন পদত্যাগপত্রের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে দফতরে জমা দিয়েছেন। আরও ৩০ জন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তরের দফতর সম্পাদক এবিএম আবদুর রাজ্জাক বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরে নির্বাহী কমিটির ১৫ জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে ‘এক নেতার এক পদ’ বিধান যুক্ত করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএনপি। সে অনুযায়ী দলের স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা দল ও সহযোগী সংগঠনের অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। একইভাবে জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন, তারাও দলের অন্য কোনো পর্যায়ের পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। কিন্তু চেয়ারপারসন চাইলে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ একাধিক পদে থাকতে পারবেন।

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নির্বাহী কমিটির যেসব নেতা থানা পর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তালিকায় রয়েছেন তারা হলেন দক্ষিণ শাখার সহসভাপতি ইউনুস মৃধা-খিলগাঁও, মীর হোসেন মিরু-কদমতলী, ফরিদ উদ্দিন-সূত্রাপুর, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু-সবুজবাগ, গোলাম হোসেন-সবুজবাগ, আনবীর আদেল খান বাবু-পল্টন, আরিফুর রহমান আরিফ-রমনা, মোশারফ হোসেন খোকন-লালবাগ, আতিক উল্লাহ আতিক-যাত্রাবাড়ী, মীর আশরাফ আলী আজম-লালবাগ, মো. মোহন-বংশাল, জয়নাল আবেদীন রতন-ডেমরা, মো. আবদুল লতিফ-কলাবাগান, সিরাজুল ইসলাম-কলাবাগান, আবুল হাসান ননি তালুকদার-শাহবাগ, এসকে সেকান্দার কাদির-পল্টন, সাব্বির হোসেন আরিফ-গোপীবাগ, যুগ্ম সম্পাদক আনম সাইফুল ইসলাম-শ্যামপুর, শেখ রবিউল আলম রবি-ধানমণ্ডি, হারুনুর রশিদ হারুন-মতিঝিল, অ্যাডভোকেট ফারুকুল ইসলাম-খিলগাঁও, আরিফুর রহমান নাদিম-বংশাল, লতিফ উল্লাহ জাফরু-বংশাল, আবদুস সাত্তার-সূত্রাপুর, মকবুল হোসেন টিপু-গেণ্ডারিয়া, আলমগীর হোসেন-যাত্রাবাড়ী, খতিবুর রহমান খোকন-চকবাজার, আবুল খায়ের বাবলু-ধানমণ্ডি, আনোয়ার পারভেজ বাদল-চকবাজার, আবদুল হান্নান-শাহবাগ, শাহীন লাল শাহীন-শ্যামপুর, কেএম জুবায়ের এজাজ-ধানমণ্ডি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম-কামরাঙ্গীরচর, মোয়াজ্জেম হোসেন খান-খিলগাঁও, জাফর সাদেক টুটুল-কলাবাগান, হামিদুল হক-সবুজবাগ, শেখ মোহাম্মদ আলী চায়না-মুগদা, আকবর হোসেন নান্টু-ডেমরা, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন-যাত্রাবাড়ী।

উত্তর শাখায় সহ-সভাপতি আবদুল আলী নকী-গুলশান, মোয়াজ্জেম হোসেন-পল্লবী, মশিউর রহমান মশু-শাহআলী, আতিকুল ইসলাম মতিন-মোহাম্মদপুর, মাসুদ খান-মিরপুর, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন-বিমানবন্দর, নবী সোলায়মান-তেজগাঁও, ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি-শাহআলী, আলতাফ উদ্দিন মোল্লা-পল্লবী, আবুল হোসেন-বাড্ডা, আনোয়ার হোসেন-মিরপুর, আবুল হাসেম-আদাবর, শাহিনুর আলম মারফত-খিলক্ষেত, যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হক-বাড্ডা, কফিল উদ্দিন-উত্তরা, শামীম পারভেজ-মিরপুর, আবুল মেসের-রামপুরা, নাসির আহমদ-বিমানবন্দর, আশরাফ হোসেন-বিমানবন্দর, সাইফুল রহমান মিহির-রামপুরা, মোয়াজ্জেম হোসেন মতি-কাফরুল, গোলাম সাবের চৌধুরী কিরণ-তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মো. আতিকুর রহমান-তুরাগ, মাহফুজুর রহমান-বাড্ডা, বেলাল চেয়ারম্যান-রূপনগর, কোষাধ্যক্ষ- আতাউর রহমান চেয়ারম্যান-ভাটারা, সহ-সাধারণ সম্পাদক- মোস্তফা জামান মেম্বার-তুরাগ, আশরাফুজ্জামান জাহান-কাফরুল, ডিএম নজরুল ইসলাম-খিলক্ষেত, হেলাল তালুকদার-উত্তরা পূর্ব, খন্দকার ইব্রাহিম খলিল-ভাসানটেক, দেওয়ান গিয়াস উদ্দিন-শাহআলী, আলাউদ্দিন সরকার টিপু-বিমানবন্দর, হাফিজুর রহমান ছাগির-উত্তরা পশ্চিম, রেজাউর রহমান ফাহিম-বনানী, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন-খিলক্ষেত, সোহেল রহমান-মোহাম্মদপুর।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়নে তাদের মাঝে এরই মধ্যে ২৫ জন নেতা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন মহানগর কার্যালয়ের দফতরে। থানা ও ওয়ার্ডের শীর্ষ পদ পেতে মহানগর নির্বাহী কমিটির পদ ছাড়তে আরও ৩০ জন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Aviation News