বিমানে আরও ৩ টি ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে

এই লেখাটি 188 বার পঠিত

বিমানে আরও ৩ টি ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজ। কানাডার কাছ থেকে জিটুজি (গভর্মেন্ট টু গভর্মেন্ট) পদ্ধতিতে এই উড়োজাহাজ কেনা হবে।
সম্প্রতি কানাডার অ্যারোস্পেস এন্ড ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানির তৈরি এই তিনটি উড়োজাহাজ কেনার অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক সংক্রান্ত কেবিনেট কমিটিতে। ৭০ আসনের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বো প্রপ প্রতিটি উড়োজাহাজের দাম পড়বে ৩১.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিমান সুত্র অনুযায়ী বিমানের বহরে দুটি ড্যাশ৮ কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। লিজে আনা এই উড়োজাহাজের জন্য প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে গুণতে হয় ১,৬৮,০০০ মার্কিন ডলার। মিশনের স্ম্যার্ট এভিয়েশন কোম্পানির কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স ২০১৫ সাল এই দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়।
সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং কানাডার অ্যারোস্পেস এন্ড ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানির মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছরের মাথায় উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হবে। জানা গেছে, এ ধরনের উড়োজাহাজ তৈরিতে এক বছর সময়ের প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, উড়োজাহাজ দুটি বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটে প্রথম যান্ত্রিক ত্রুটি দিয়েই এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে সময়ে সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ছে ড্যাশ৮ কিউ-৪০০ উড়োজাহাজে।
বিমানের মার্কেটিং বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, অনেক টাকা ব্যয়ে উড়োজাহাজ দুটি লিজে আনা হয়েছে। নিজস্ব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে এই অযাচিত খরচের হাত থেকে রক্ষা পাবে সরকারি মালিকানাধীন এই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বিমান।
এ বিষয়ে বিমানে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম-পিআর) শাকিল মেরাজ বলেন, ঝামেলাহীন ও নির্ঝঞ্ঝাটভাবে অভ্যন্তরীণ রুটসমূহ পরিচালনার স্বার্থে বিমানের বহরে আরো নতুন নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া এই দুটি ড্যাশ৮ উড়োজাহাজের যেকোনো একটি গ্রাউন্ডেড (বসে গেলে) হলে তখন অভ্যন্তরীণ রুটসমূহের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
শাকিল মেরাজ আরও বলেন‘এরই মধ্যে কানাডা সরকারের সাথে লেটার অব ইনটেন (এলওআই) স্বাক্ষর হয়েছে। এরপর চুড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে এক বছরের মাথায় এই উড়োজাহাজ তিনটি সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
বর্তমানে বিমান এই দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ছাড়াও কলকাতা ও কাঠমান্ডু রুটের যাত্রী পরিবহনে এই উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়।

Aviation News