ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান

এই লেখাটি 38 বার পঠিত

একটি জাহাজে যদি ১৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ থাকে তাহলে তাকে শুধু মূল্যবান নয় বরং মহামূল্যবান জাহাজই বলা যায়। কারণ এ ১৭ বিলিয়ন ডলার এত বিপুল অর্থ যে তা দিয়ে ১১টি বুর্জ খলিফা (বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন) ভবন নির্মাণ করা যায়।

ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেই জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে ক্যারিবিয়ান সাগরে। প্রায় ৩০০ বছর আগে এ জাহাজটি সাগরে ডুবে যায়। প্রায় তিন বছর আগে সাগরতলে এ জাহাজটির সন্ধান পান গবেষকরা।

কলম্বিয়া উপকূলের নিকটবর্তী এলাকায় জাহাজটির সন্ধান পাওয়া গেলেও এর সঠিক অবস্থান প্রকাশ করেননি গবেষকরা। এবার জাহাজটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অবস্থা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এটি উদ্ধার করা হবে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি এখনো।

১৭০৮ সালে এ স্প্যানিশ জাহাজটি বন্দর শহর কার্টাগেনার কাছে ক্যারিবীয় সমুদ্রে ডুবে যায়।

ব্রিটিশদের আক্রমণে ১৭০৮ সালের জুনে কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূলে ডুবে যায় স্পেনের স্যান হোসে গ্যালন জাহাজটি। ডুবে যাওয়ার সময় এতে ৬০০ কর্মী ছিলেন।

মার্কিন ঔপনিবেশিকরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অর্থ সহায়তার জন্য স্পেনের তৎকালীন রাজা পঞ্চম ফিলিপকে বিপুল রত্নবোঝাই এ জাহাজ পাঠাচ্ছিল। কিন্তু কার্টাগেনার কাছে জাহাজটি ব্রিটিশদের হামলার শিকার হয়।

জাহাজটির আশায় স্পেন এবং কলম্বিয়া সে সময়েই খোঁজ শুরু করে। কিন্তু বহু সময় ও অর্থ ব্যয় করেও গত ৩০০ বছরে মেলেনি জাহাজটির কোনো ঠিকানা। অবশেষে ৩০০ বছরের রহস্যের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলম্বিয়া জাহাজটির খোঁজ পাওয়ার কথা জানায়।

তবে জাহাজটি ঠিক কোন জায়গায় পাওয়া গেছে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাননি কর্মকর্তারা। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট সে সময় বলেছিলেন, জাহাজটিতে কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছিল। এইসব ধনসম্পত্তি রাখার জন্য কার্টাগেনায় একটি জাদুঘর করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

জাহাজটির সন্ধান পাওয়ার জন্য একটি গবেষণা এজেন্সির সহায়তা নিয়েছে কলম্বিয়া সরকার। মার্কিন গবেষকরা এরপর স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র পাঠিয়ে সাইড সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাহাজটির সন্ধান পেয়েছে।

জাহাজটির সন্ধান পাওয়া গেলেও এর ধনরত্নের দাবি করছে বেশ কয়েকটি দেশ। ফলে এর ধনরত্ন কিভাবে ভাগ করা হবে তা নিয়েও আইনি যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Aviation News