কার্গো ভিলেজে পণ্যজটঃ পরস্পরকে দুষছে বিমান বিজিএমইএ

এই লেখাটি 100 বার পঠিত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গত এক বছরে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উড়োজাহাজ থেকে কার্গো কমপ্লেক্স পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে প্রয়োজনীয় ফর্কলিফট ক্রয়ের পাশাপাশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে আরো ৪০০ জনবল। তার পরও সঠিক সময়ে আমদানি পণ্য বুঝে না নেয়ায় প্রায় সময়ই কার্গোপণ্যের জট তৈরি হচ্ছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও পণ্যের আমদানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এজন্য পরস্পরকে দুষছে।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হওয়া কার্গোপণ্যের পরিমাণ ৭৭ হাজার ৪৭৪ টন। ছয় মাসে আমদানি হওয়া এসব কার্গোপণ্যের মধ্যে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ডেলিভারি দেয়া হয়েছে ৭০ হাজার ২০১ টন। বাকি ৭ হাজার ২৭৩ টন কার্গোপণ্য পড়েছিল বিমানবন্দরে। মূলত আমদানিকারকরা সময়মতো এসব পণ্য বুঝে না নেয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয় বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, কার্গো ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিমানবন্দরের সৌন্দর্য, নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিগত বছরে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কার্গোপণ্য দ্রুত ডেলিভারি দেয়ার জন্য সম্প্রতি ৪০০ জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কার্যক্রম নজরদারির জন্য ১২৫টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সপ্তাহে সাতদিন কার্গো কমপ্লেক্সের গেট এ ও গেট বি খোলা রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও কাস্টমসও খোলা রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর পরও আমদানিকারকদের অসহযোগিতার কারণে পণ্যজট তৈরি হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন কার্গো আমদানি হয়। শুক্র ও শনিবার আমদানিকারকরা পণ্য বুঝে নিতে চান না। ফলে দুদিনে জমে যায় এক হাজার টন কার্গোপণ্য। প্রতি রোববার আরো ৫০০ টন কার্গো আমদানি হওয়ার পর সেটা গিয়ে ঠেকে ১ হাজার ৫০০ টনে। এভাবেই পণ্যজট তৈরি হচ্ছে। যদিও সপ্তাহের সাতদিনই পণ্য ডেলিভারি দেয়ার জন্য প্রস্তুত বিমান কর্তৃপক্ষ।

শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো কমপ্লেক্সের তথ্যেও আমদানিকারকদের সঠিক সময়ে পণ্য বুঝে না নেয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। তথ্য বলছে, গত বছর জুলাইয়ে কার্গো ভিলেজে আমদানি কার্গোর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৪৭২ টন; এর মধ্যে ডেলিভারি হয় ৮ হাজার ৭২৩ টন। একই বছর আগস্টে ১০ হাজার ১১১ টন আমদানির বিপরীতে ডেলিভারি হয় ১০ হাজার ৬৮২ টন, সেপ্টেম্বরে ৯ হাজার ৮৪৯ টনের বিপরীতে ডেলিভারি ৮ হাজার ২১৮, অক্টোবরে ১৩ হাজার ১০৫ টনের বিপরীতে ১১ হাজার ৫৯২, নভেম্বরে ১২ হাজার ৭৭০ টনের বিপরীতে ডেলিভারি ১১ হাজার ১৬৩, ডিসেম্বরে ১১ হাজার ১৭৬ টনের বিপরীতে ৯ হাজার ৬৪ ও চলতি বছর জানুয়ারিতে ১০ হাজার ৯৯১ টন আমদানির বিপরীতে ডেলিভারি দেয়া হয় ১০ হাজার ৭৫৯ টন কার্গোপণ্য।

সঠিক সময়ে পণ্য বুঝে না নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিমান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলেও তা মানতে নারাজ আমদানিকারক। বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, উড়োজাহাজে আসার পর পণ্য বুঝে নেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। এরপর পণ্যটি নিজ দায়িত্বে গোডাউনে নিয়ে রাখে তারা (বিমান কর্তৃপক্ষ)। এ প্রক্রিয়ায় শেষ করে কখনো ২৪, কখনো ৪৮ ঘণ্টা পর ডকুমেন্টস সরবরাহ করা হয়। এ ডকুমেন্টসের বিপরীতে আমরা পণ্য কাস্টমসে প্রসেস করি। প্রসেস করার পর দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ পণ্যই একদিনে ছাড়িয়ে নেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরের দিন করা হয়। কোনো ক্ষেত্রে ডকুমেন্টসে ঝামেলা থাকলে বিলম্ব হয়, তবে সেটা ভিন্ন বিষয়। ডকুমেন্টস পাওয়া ও প্রসেস করতেই দুদিন সময় চলে যায়। এ দুদিনে আরো পণ্য আকাশপথে এসে পৌঁছায়। এভাবেই জটগুলো তৈরি হচ্ছে। এখানে দোষ দেয়ার কিছু নেই। বাস্তবতা হলো, সার্বিকভাবে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সক্ষমতা পর্যাপ্ত হলে দিনে দিনে ডকুমেন্টস প্রসেস করে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়া সম্ভব।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের বিমানবন্দরগুলোর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে বিমান নিজেদের বহনকৃত মালামাল ছাড়াও অন্যান্য এয়ারলাইনসের বহনকৃত পণ্য গ্রহণ ও ডেলিভারি প্রদান করে থাকে। কার্গো পরিবহন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আয়েরও অন্যতম উৎস।

বণিক বার্তা

Aviation News