শাশুড়িকে নিয়ে উধাও জামাই!

এই লেখাটি 44 বার পঠিত

দু’দিন ধরে স্বামীর খোঁজ পাচ্ছেন না স্ত্রী। বেকায়দায় পড়ে নিজের বাবাকে ফোন করলেন ওই মহিলা। কিন্তু সেখানে ফোন করে হতবাক হয়ে যান তিনি। জানতে পারেন দু’দিন ধরে নিঁখোজ রয়েছেন তাঁর মা-ও। তারপর থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে অসহায় অবস্থা মেয়ের।

ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা। শাশুড়িকে নিয়ে উধাও এই জামাইয়ের নাম প্রসেনজিৎ হাজরা।

জানা গেছে, কেতুগ্রামের বাসিন্দা মলিন হাজরার ছেলে প্রসেনজিতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বহরান গ্রামের অনুরূপা বর্মনের প্রথম পরিচয় হয়। তারপর ২০১৬ সালে অনুরূপাদেবী পালিয়ে বিয়ে করেন প্রসেনজিৎকে।

প্রথমে বাড়িতে রাজি না থাকলেও পরে পরিবারের পক্ষে থেকে মেনে নেয়। এক বছরের সন্তানও রয়েছে তাদের। কিন্তু স্ত্রীকে ছেড়ে যে শাশুড়ির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন জামাই তা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি।

অনুরূপার অভিযোগ, ইদানীং শ্বশুরবাড়িতে আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল প্রসেনজিতের। সেই থেকেই শাশুড়ির সঙ্গে প্রসেনজিতের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে সন্দেহ করছেন অনুরূপা। তাঁর দাবি, মাঝে মধ্যে তিনি দেখতেন মোবাইল ফোনে দু’জনের মধ্যে লুকিয়ে কথা চলত। আলাদা বসে গল্পও করতেন তার স্বামী ও শাশুড়ি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে, এমনটা কোনওদিন ভাবতে পারেননি বলে জানান অনুরূপা।

জামাই-শাশুড়ির এমন কাণ্ডের পর কার্যত হইচই পড়ে গিয়েছে এলাকায়। লজ্জার পড়ে বাবা-মেয়ে দু’জনেরই বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। অনুরূপার বাবা কৃষ্ণ বর্মন পেশায় হকার। তিনি ফুচকা বিক্রি করেন। অনুরূপার মা মঙ্গলীদেবী গৃহবধূ।

কৃষ্ণ বর্মন বলেন, প্রসেনজিৎ মোবাইল ফোনে আমার মেয়ের কাছে আনন্দ মণ্ডল নামে ও নিজেকে ঠিকাদার হিসাবে প্রথমে পরিচয় দিয়েছিল। বিয়ের পর জানতে পারি ওদের মূল পেশা শূকর-পালন ও জনমজুরি। তবু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জামাইকে ব্যবসায় নামিয়েছিলাম। নিজের বাড়ির কাছে ঘর তৈরি করে দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমাদের সর্বনাশ করে চলে গিয়েছে প্রসেনজিৎ।

কৃষ্ণ বর্মন জানিয়েছেন, তার কয়েকজন বন্ধু শাশুড়ি ও জামাইকে একসঙ্গে বেশ কয়েক জায়গায় দেখেছেন। ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

কেতুগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

Aviation News