চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট বন্ধ করছে ফ্লাই দুবাই

এই লেখাটি 167 বার পঠিত

সাত বছর পর চট্টগ্রাম থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করছে সংযুক্ত আরব-আমিরাতের বিমান সংস্থা ফ্লাই দুবাই। আগামী ১৪ জুন চট্টগ্রাম থেকে তাদের শেষ ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে। এর আগে গত ২৫ মার্চ ঢাকা থেকেও কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় বিমান সংস্থাটি।

বিদেশি এই বিমান সংস্থাটি এমন একসময়ে কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে, যখন বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে ভ্রমণ ও চাকরি ভিসা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ভ্রমণ ও চাকরি নিয়ে বিপুল যাত্রী এখন দুবাই ভ্রমণ করছেন।

এর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত তিন কারণে ফ্লাই দুবাই তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। ঢাকা থেকে ফ্লাইট বন্ধের কারণ হচ্ছে, বিদেশি বিমান সংস্থা এমিরেটসের সঙ্গে ফ্লাই দুবাই ‘কোড শেয়ার’ পদ্ধতি চালু। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের জেনারেল সেলস এজেন্টের সঙ্গে ফ্লাই দুবাই মূল কর্তৃপক্ষের আর্থিক দ্বন্দ্ব। আর চট্টগ্রামে বন্ধের কারণ ফ্লাই দুবাইয়ের জেনারেল সেলস এজেন্টের (জিএসএ) মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ফ্লাই দুবাইয়ের জিএসএ স্কাই এভিয়েশনের চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ সাইফুল হক। তিনি আবার বেসরকারি খাতের শীর্ষ এবি ব্যাংকের পরিচালক। বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার হন তিনি।

বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে ফ্লাই দুবাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল রেজা চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও বন্ধ থাকায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরে ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘ফ্লাই দুবাই কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হচ্ছে। আর ঢাকা থেকে বন্ধ হচ্ছে কোড শেয়ারিংয়ের কারণে। সিলেট থেকে কার্যক্রম এখনো বন্ধ হয়নি। এর বেশি মন্তব্য তিনি করতে রাজি হননি।

জানা গেছে, বিগত ২০১১ সালের জানুয়ারি চট্টগ্রাম-দুবাই রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট দিয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু করে ফ্লাই দুবাই। যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বিমান সংস্থাটি। এই রুটে দীর্ঘদিন একচেটিয়া ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ করেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে।

এভিয়েশন খাতে কর্মরতরা বলছেন, বিশ্বের শীর্ষ বিমান সংস্থা এমিরেটসের সঙ্গে ফ্লাই দুবাই ‘কোড শেয়ার’ পদ্ধতি চালু করেছে। এর অর্থ হচ্ছে ফ্লাই দুবাই টিকিট কিনে চট্টগ্রাম থেকে একজন যাত্রী দুবাই হয়ে এমিরেটস বিমান সংস্থায় বিশ্বের নির্ধারিত গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। ফ্লাই দুবাই কম খরচের বাজেট এয়ারলাইনস হলেও বিলাসবহুল এমিরেটসের অনেক সুবিধা পাবেন। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাই দুবাই কার্যক্রম বন্ধ হলে চট্টগ্রাম থেকে আর এমিরেটসের ভ্রমণ সুবিধা মিলবে না।

বিদেশি বিভিন্ন বিমান সংস্থায় কর্মরত শীর্ষ ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকায় যেহেতু এমিরেটস সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে, সেখানে নতুন কাউকে জিএসএ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন জিএসএ নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু এতে কিছুটা সময় লাগবে। দুবাইয়ে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা নতুন জিএসএ পেতে চেষ্টা-তদবির করছেন বলে জানা গেছে।

ফ্লাই দুবাই বন্ধ হওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে দুবাই যেতে হলে এখন শুধু রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ বিমানই ভরসা। বাংলাদেশ বিমান সেখানে বিশাল বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর ফ্লাইট দিয়ে সেখানে যাত্রী পরিবহন করছে। তবে বিদেশি আরেক বিমান সংস্থা এয়ার এরাবিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব-আমিরাতের শারজাহ হয়ে সড়কপথে দুবাই যাওয়া সম্ভব।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জাহান বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাই দুবাই কার্যক্রম বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিষয়টি জেনেছি।’

Aviation News