যে অসাধ্য সাধন করল গুগুল

এই লেখাটি 26 বার পঠিত

কম্পিউটার আবিস্কারের পর বদলে গিয়েছিল মানুষের জীবনধারনের উপায়। মানুষের অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান নিমেষে করে দিতে পটু হয়ে গিয়েছিল কম্পিউটার। কম্পিউটারকে যা শিখিয়ে দেওয়া হত তাই করতে পারত এই যন্ত্রটি। কিন্তু কখনই নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না কম্পিউটারের। গত কয়েক বছরে সেই কাজেই ধীরে ধীরে পটু হয়ে উঠছে কম্পিউটার। শুনতে কল্প বিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও নিজের বুদ্ধি ব্যাবহারে বেশ অনেকটাই পটু উঠেছে আজকের কম্পিউটার। আর এরই নাম আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স। শুনে কল্প বিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও আজ তা সত্যি হয়ে উঠছে ক্রমশ।

গত এক দশকে হাতের মুঠোর ফোনটি হয়ে উঠেছে আমাদের প্রাইমারী কম্পিউটিং ডিভাইস। গুগুল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিরি, বা অ্যালেক্সা এইভাবেই সারাদিন আমাদের অগনিত প্রশ্নের উত্তর দিতে শিখেছে। বুঝতে শিখেছে আমাদের গলার আওয়াজ ও ভাষা। কিন্তু এবার এই সব কিছুকেই ছাপিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সে নতুন দিগন্ত খুলে দিল গুগুল। সম্প্রতি তাদের ডেভেলপারদের সঙ্গে বৈঠক গুগুল আইও তে গুগুল সারা বিশ্বের সামনে নিয়ে এলো গুগুল ডুপ্লেক্স।

কি এই নতুন গুগুল ডুপ্লেক্স?
গুগুল ডুপ্লেক্স আলাদা কোনো সফটওয়ারের নাম নয়। এটি আসলে গুগুল অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে একসাথে কাজ করবে। গুগুলের নতুন এই টেকনোলজির মাধ্যমে আপনার ফোন এবার আপনার হয়ে করে ফেলতে পারবে ফোন কল। তবে সেই ফোন কলে গুগুল অ্যাসিস্টেন্টের গলার আওয়াজ শুনে মনে হবে কোন মানুষ কথা বলছেন। ফোনের অপর দিকের মানুষটিকে বলে না দিলে তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব হবে না যে তিনি একজন রোবোটের সাথে কথা বলছেন।

কীভাবে কাজ করবে এই গুগুল ডুপ্লেক্স?
ধরুন আপনি চুল কাটার জন্য সেলুনে অ্যাপয়েনমেন্ট করতে চান। কিন্তু সেখানে অনলাইনে বুকিং এর কোনো উপায় নেই। কিন্তু আপনার হাতে ফোন করার ফুরসৎ নেই। আপনি যদি গুগুল অ্যাসিস্ট্যান্টকে বলে দেন আপনার অ্যাপয়েনমেন্টটি বুক করে দিতে তবে গুগুল আপনার ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ফোন থেকেই সেই সেলুনে ফোন করে আপনার জন্য বুক করে দেবে নির্দিষ্ট অ্যাপয়েনমেন্ট। ফোনের অন্যদিকের মানুষটি বুঝতেও পারবেন না তিনি একটি রোবটের সাথে কথা বললেন।

কথার প্রসঙ্গে অন্য কথা উঠলে সাধারণত মানুষ যেভাবে উত্তর দেয় বা গলার আওয়াজ বদলায় গুগুলের নতুন এই ফিচারেও থাকবে সেই ফিচার। তবে আপাতত শুধুমাত্র অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারবে নতুন এই ফিচার। সাধারণ কথোপকথন করতে পারবে না গুগুল ডুপ্লেক্স। তবে আশা করা হচ্ছে সেই দিনও বেশি দূরে নেই যখন গুগুল যে কোনো কথায় আমাদের সাথে অংশ নিতে পারবে এবং নিজের মতামত জানাতে পারবে।

কীভাবে কাজ করছে গুগুল ডুপ্লেক্স?
কীভাবে মানুষের মতো এতো তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে শিখছে এই টেকনোলজি? বা কথার ফাঁক সহজেই কীভাবে ধরে ফেলছে যা শুধুমাত্র মানুষের পক্ষেই করা সম্ভব ছিল এতোদিন? এর পিছনে রয়েছে নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যাবহার।

কী এই নিউরাল নেটওয়ার্ক?
নিউরাল নেটওয়ার্ক হল অসংখ্য ম্যাট্রিক্সের সমুহ। যা প্রতি মিনিটে ইনপুট নিয়ে তার থেকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। মানুষ যেমন ধীরে ধীরে সবকিছু শেখে নিউরাল নেটওয়ার্কেও একই ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শেখে কম্পিউটার। এর জন্য সময় লাগে অনেকটাই। গুগুল ডুপ্লেক্স এর লঞ্চ ইভেন্টে গুগুল সিইও সুন্দর পিচাই বলেন বহু বছরের গবেষণা ও অনেক টাকা বিনিয়োগের ফল এই গুগুল ডুপ্লেক্স।

নতুন এই টেকনোলজি নিঃসন্দেহে নাড়িয়ে দিয়েছে টেকজগতকে। একই সাথে কিছু মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এর নৈতিকতা নিয়ে। যেহেতু এই ফোনের অন্য দিকের মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় যে তিনি একটি কম্পিউটারের সাথে বা রোবটের সাথে কথা বলছেন ফলে এই টেকনোলজি ভবিষ্যতে অন্য বিপদ ডেকে আনতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

তবে গুগুলের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে কোনো আনৈতিক কাজ তাঁরা করবেন না। টেকনোলজি যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে আদুর ভবিষ্যতে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই করে ফেলবে আপনার হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনটি। এখন অপেক্ষা নতুন এই গুগুল ডুপ্লেক্স গ্রাহকের ফোনে আসার।

তবে গুগুলের তরফে জানানো হয়েছে এখনো গবেষণার স্তরে রয়েছে এই টেকনোলজি। গ্রাহকের ফোনে নতুন এই টেকনোলজি পৌঁছাতে এখনো সময় লাগবে বছর খানেক।

Aviation News