যাত্রীদের জীবন বাঁচিয়ে এখন চীনের হিরো পাইলট চুয়ানজিয়ান

এই লেখাটি 35 বার পঠিত

সিচুয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ১১৯ জন যাত্রী নিয়ে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের চংকিং থেকে তিব্বতের লাশায় যাচ্ছিল। হঠাৎ করে ৩২ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়তে থাকা বিমানের ককপিটের কাচ (সামনের কাঁচ) ভেঙ্গে যায়। দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে করতে হয় জরুরী অবতরণ। পাইলটের দক্ষতায় বেঁচে যান ১১৯ যাত্রী। খবর রয়টার্স, সিজিটিএন।
বিমানের পাইলট লিউ চুয়ানজিয়ান বলেন, মাঝ আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় ককপিটের ভেতরে হঠাৎ প্রচণ্ড জোরে শব্দ হতে থাকে। আমি দেখলাম সামনের কাঁচটিতে ফাটল ধরেছে। তখন জোরে একটা শব্দ হলো। তারপর দেখি আমার কো-পাইলটের শরীরের অর্ধেকটা জানালা দিয়ে উড়োজাহাজের বাইরে চলে গেছে। কো-পাইলটের সিটবেল্ট বাঁধা ছিলো বলে রক্ষা। তাকে টেনে টুনে ককপিটের ভেতরে নিয়ে আসা হয়।’
তিনি আরও বলেন, এরপর বিমানের ভেতরে তাপমাত্রা ও বাতাসের চাপ দ্রুত কমে যেতে শুরু করে। সেসময় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও নিচে পড়তে থাকে। ককপিটের ভেতরে যা কিছু ছিলো সবই বাতাসে ভাসতে থাকে। আমি রেডিওতে কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম না। বিমানটি এতো জোরে কাঁপছিল যে আমি মিটারও পড়তে পারছিলাম না।’

চীনের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ জানানো হয়েছে, সহকারি পাইলট হাতে চোট পেয়েছেন। তার মুখের বিভিন্ন জায়গায় কেটে গেছে। কো-পাইলটের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গেছে। পাইলট অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিশ মিনিটের প্রচেষ্টায় বিমানটিকে চেঙ্গু সুয়াঙ্গুলি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সক্ষম হন।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলে পাইলট বন্দনা। চীনাহিরো পাইলট হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং করছে চীনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ‘সিনা ওয়েইবো’তে। অনেকেই পাইলটকে পুরষ্কার দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। আবার অনেকে বলছেন, বিমানের ভেতরে নিরাপত্তা বাড়াতে।

Aviation News