হজযাত্রার শেষ দিনে ভিসা না পেয়ে দিশাহীন প্রতারিতরা

এই লেখাটি 203 বার পঠিত
সংগৃহীত

হজযাত্রার শেষ দিনে ভিসা না পেয়ে দিশাহীন প্রতারিতরা।

সব টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও হজযাত্রার শেষ দিনেও ভিসা-টিকিট না পেয়ে আশকোনা হজ অফিসের বারান্দায় দিশাহীন ছোটাছুটি করেছেন অনেকেই।
এত কিছুর পরও পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে সফলতার কথা বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি তসলিম।

প্রতারণার কারণ হিসেবে হজ অফিসের পরিচালক মধ্যস্বত্বভোগী এবং দালালদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, তদন্ত করে অভিযোগ সাপেক্ষে প্রতারক এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর হাব সভাপতি বলেছেন, তদন্ত করে প্রতারণার প্রমাণ পেলে হাব থেকে প্রতারক এজেন্সির সদস্য পদ বাতিল করা হবে।

খুলনার দিঘলিয়া থেকে আসা জয়নাব বেগম জানান, বহু আগেই হজে যাওয়ার জন্য রহমানিয়া এজেন্সিকে সব টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও আজ অবধি তারা ভিসা বা টিকিট হাতে দিতে পারেনি। অথচ হজযাত্রার আজকে শেষ দিন। তিনি বলেন, রহমানিয়া এজেন্সির ম্যানেজার শহিদুল ইসলামের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিসা হয়েছে। এখন পর্যন্ত টিকিট প্রসেসিংয়ে আছে। তিনি শেষ পর্যন্ত হজে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

একই অভিযোগ করে প্রতারণার শিকার হজযাত্রী রফি উদ্দিন বলেন, তিনি হজে যাওয়ার জন্য রহমানিয়া এজেন্সিকে সব টাকা পরিশোধ করেছেন। অদ্যাবধি তাকে ভিসা-টিকিট দেয়া হয়নি। এমনকি কখন হজে যেতে পারবেন, না কি আদৌ যেতে পারবেন না- তিনি এখন পর্যন্ত জানতেও পারেননি।

বেলা ১১ টায় হজ অফিসের নিজ কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্য বছরের মতো এ বছর হজযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ বিমানের হজযাত্রার শেষ তারিখ ৫ আগস্ট হলেও ৬ আগস্ট এবং সৌদি এয়ারলাইন্স আরও তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এভাবে সব হজযাত্রীকে হজে যাওয়া নিশ্চিত করবেন তারা।

দুপুর ১২টার পর সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, এ বছর হজযাত্রায় তারা নিজেদের সফল বলে দাবি করেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তসলিম বলেন, শুরু থেকে তিনি সশরীরে হাজীদের নির্বিঘ্ন হজযাত্রায় রাত-দিন সময় কাটিয়েছেন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হজযাত্রার শেষ দিনে সব হাজী হজে যেতে পারবেন। তবে ২২২ জন নিবন্ধিত হজযাত্রী যারা এবার হজে যেতে পারছেন না, তাদের না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এদের কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে এবার হজে যাচ্ছেন না।

হজ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের সৌদি সরকারের সঙ্গে হজযাত্রীর কোটা সংখ্যা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৯২৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন। ৫৯৮টি হজ এজেন্সি এ লক্ষ্যে কাজ করে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৯১৭ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৪ জনসহ ১ লাখ ২৬ হাজার ৭০১ জন ভিসাপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৮৯টি এবং সৌদি এয়ারলাইনস ১৭৮টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে।

সুত্রঃ যুগান্তর

Aviation News