বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী পর্যটন শিল্পঃ গবেষণা

এই লেখাটি 113 বার পঠিত

বিশ্বের পর্যটন শিল্পের কারণে অন্তত ১০ শতাংশ ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি গ্যাস নির্গত হয়। দ্যা ইউনিভার্সিটি অব সিডনির গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। গবেষণা বলছেন, ট্রিলিয়ন ডলারের এ আয়ের খাত বায়ুমণ্ডলে দিনদিনই বাড়াচ্ছে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ। সেইসাথে বাড়ছে বিশ্বের উষ্ণতা।

সূর্যের তীক্ষ্ণ রশ্মির পুরোটাই যেন পৃথিবী পর্যন্ত না আসতে পারে, সেজন্য পৃথিবীর বাইরে বায়ুমণ্ডলে একরকম আবরণ হিসেবে কাজ করে কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড। কিন্তু পৃথিবীতে বন নিধনসহ পরিবেশ দূষণের কারণে বায়ুমণ্ডলে বেড়ে গেছে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ক্লোরো ফ্লোরো কার্বনের পরিমাণ। এই গ্যাস সূর্যের রশ্মি বায়ুমণ্ডলে আটকে রেখে বাড়িয়ে দেয় পৃথিবীর তাপমাত্রা। ফলে সৃষ্টি হয় গ্রিনহাউজ এফেক্ট।

সিডনির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণায় দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পর্যটন খাতই থেকে অন্তত ৮ শতাংশ কার্বন নি:সরণ হয়। বিশ্বের ১শ’ ৮৯ টি দেশের ওপর করা এ গবেষণা বলছে, আকাশপথে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ায় বায়ুমন্ডলে বাড়ছে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ।

কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য যেকোন আয়ের খাতের তুলনায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে পর্যটন খাতে। এ খাত থেকে ২০২৫ সাল নাগাদ রেকর্ড পরিমাণ আয় হবে বলেও দেখানো হয় গবেষণায়। আর আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশন বলছে, ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্বে বিমানে ভ্রমণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়াবে ৭শ’ ৮০ কোটিতে।

গবেষণা বলছে, গেলো কয়েক দশকে পর্যটন খাতের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম কার্বন নি:সরণকারী দেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, মেক্সিকো, ব্রাজিল, জার্মানি, কানাডা এবং ব্রিটেন। গ্রিন হাউজের কারণে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়লে তা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মত পরিবেশবিদদের।

Aviation News