তুঘলকি কর্মকান্ডে হিমশিম খাচ্ছে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো

এই লেখাটি 503 বার পঠিত

উড়োজাহাজের খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক নির্ধারণ করা রয়েছে ৪ পার্সেন্ট। কাগজে-কলমের এই আদেশ মানা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে গায়ের জোরে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে ৫০ পার্সেন্ট। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এয়ারলাইন্স অপারেটরদের বিরোধ। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে পণ্য খালাসের ওপর এইচএস কোড নির্ধারিত থাকলেও দেশের কাস্টমস হাউসগুলোতে অযৌক্তিক হারে আদায় করা হচ্ছে শুল্ক। অথচ দুনিয়াব্যাপী গাড়ির যন্ত্রাংশ ও এভিয়েশন যন্ত্রাংশের (স্পেয়ার পার্টস) ওপর শুল্ক আদায়ের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা এইচএস কোড। বাংলাদেশে রয়েছে কাগজে-কলমে। বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। জোর করে ৪টাকা শুল্কের স্থলে ৫০টাকা আদায় করা হচ্ছে। অরাজকতা ও তুঘলকি কর্মকা-ের শেষ এখানেই নয়। হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য জরুরীভাবে স্পেয়ার পার্টস আনতে গেলে তার ওপর জরিমানা ধরা হয় শতকরা ৫৩ ভাগ। তেলের দামেও রয়েছে উন্মাদ নীতি। একই তেলের দাম ঢাকায় এক রকম, চট্টগ্রামে আরেক রকম। অভ্যন্তরীণ রুটে এক রকম দাম; আন্তর্জাতিক রুটে আরেক রকম। আবার ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে তেল কিনতে গেলে দাবি করা হয় দ্বিগুণের বেশি জামানত। এসবের পাশাপাশি এরোনটিক্যাল চার্জও আদায় করা হয় নজিরবিহীন। আর বৈষম্য? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমানের জন্য এক ধরনের সুবিধা; প্রাইভেটগুলোর জন্য আরেক ধরনের। এ ধরনের নানা অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, অস্বাভাবিকতা ও বৈষম্য দেশীয় এয়ারলাইন্সকে ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের দিকে। দেশে আইকাও ও আইএটিএ’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন ধরনের নীতিমালা না থাকায় বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বিপুল সম্ভাবনা জাগিয়েও এখন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না ইউএস বাংলা, রিজেন্ট ও নভোর মতো জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স। এসব কারণেই একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো। সিভিল এভিয়েশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০ বছরে মোট ১২টি এয়ারলাইন্স অনুমতি পেলেও পরিচালনা করার পর বন্ধ হয়ে যায় ৭টি। আর ২টি প্রতিষ্ঠান অনুমতি নিলেও কখনই পরিচালনায় আসেনি। এখন টিকে আছে মাত্র ৩টি বেসরকারী এয়ারলাইন্স।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বর্তমানে বেসরকারী ইউএস বাংলা, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও নভোএয়ার ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বন্ধ হয়ে গেছে এ্যারো বেঙ্গল, এয়ার পারাবাত, এয়ার বাংলাদেশ, রয়েল বেঙ্গল এয়ার, বেস্ট এয়ার, জিএমজি এয়ারলাইন্স এবং ইউনাইটেড এয়ার। শখের বশে প্রথমে তারা এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। তাদের এ শখ ফিকে হয়ে আসে যখন কোটি কোটি টাকার বিল গুনতে হয়- উচ্চহারের এরোনটিক্যাল চার্জ, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। তখন আর রণেভঙ্গ দেয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোন বিকল্প ছিল না।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশীষ রায় চৌধুরির মতে, ইউএস বাংলা, রিজেন্ট ও নভো যাত্রী সাধারণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হলেও টিকে থাকাটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এয়ারলাইন্স অপারেট এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) প্রেসিডেন্ট অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর ভাষ্যমতে, বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলোর এখন রীতিমতো রক্তক্ষরণ হচ্ছে। শুধু যে এয়ারলাইন্স, তা নয়। হেলিকপ্টারগুলোরও একই হাল। নীতি বৈষম্যের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেসরকারী ্এয়ারলাইন্সগুলো যে ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় এখানে তার উল্টো। যে কারণে বিপুল সম্ভাবনার এই খাতের বিকাশ ঘটছে না। পর্যাপ্ত নীতি, সহায়তা ও আর্থিক সক্ষমতার অভাবে বিদেশী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অসম প্রতিযোগাতায় হিমশিম খাচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় বাজার সম্প্রসারণে সরকারী নীতি-সহায়তার পাশাপাশি কিছু দাবি মানা হলেই বদলে যেতে পারে এ খাতের চিত্র।

গাড়ির শুল্ক উড়োজাহাজে ॥ বর্তমানে রাজস্ব নীতিতে উড়োজাহাজ ও গাড়ির জন্য আলাদা আলাদা শুল্কহার নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও নির্ধারণ করা হয়েছে এইচএস কোড ৮৮০৩.৩০। এই কোডে এভিয়েশনের স্পেয়ার পার্টসের ওপর গড়পড়তা ৪ পার্সেন্ট শুল্ক নির্ধারিত করা হলেও তা অমান্য করে পদে পদে হয়রানি করা হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলোকে। এভিয়েশনের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করার সময় শুল্ক আদায় করা হয়েছে অন্য এইচ এস কোডে। যেমন উড়োজাহাজের টায়ারের ওপর এইচএস কোড অনুযায়ী ৪ পার্সেন্ট শুল্ক নির্ধার্তি থাকলেও ঢাকা কাস্টমস হাউসে তা আদায় করা হচ্ছে সাধারণ গাড়ির টায়ারের কোডে- যা টাকার অঙ্কে ৫০ পার্সেন্টেরও বেশি। শুধু এই কোড নিয়ে হরহামেশাই ঢাকা কাস্টমস হাউসে বাগবিত-া দেখা দেয়। যাদের বেশি প্রয়োজন তারা ৫০ পার্সেন্ট শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য হয়। আবার যারা উৎকোচে সমঝোতায় আসে তারা ঠিকই ৪ পার্সেন্ট শুল্ক দিয়ে স্পেয়ারপার্টস খালাস করতে পারে। এহেন অরাজক পরিস্থিতি দেখার কেউ নেই বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে এয়ারলাইন্স অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্ওএবি)। এ নিয়ে বার বার রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে দেনদরবার করলেও বিষয়টির কোন সুরাহা হচ্ছে না।
্এ বিষয়ে এওএবি সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু বলেন, এতদিন ধরে এসব দাবির প্রতি কেউই কর্ণপাত করেনি। তবে আশার আলো দেখা যাচ্ছে রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া এয়ারলাইন্সগুলোর দাবির প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক ও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। আমরা ইতোমধ্যে তার স্েঙ্গ দেখা করে আসছে বাজেটে এগুলোর সুরাহা করার দাবি জানিয়েছে। তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন। এখন বাজেটের আগেই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশার এবার একটা কিছু হবে।

সারচার্জে কাবুলিওয়ালা নীতি ॥ বর্তমানে সিভিল এভিয়েশনসহ অন্যান্য চার্জ বাবদ পাওনা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরকার উচ্চ হারে সারচার্জ আদায় করে- যা ১৪৪ শতাংশেরও বেশি। সাধারণত প্রতি সপ্তাহের বিল সপ্তাহে পরিশোধ করতে হয়। যদি এটা পরিশোধে ব্যর্থ হয় কেউ তাহলে তাকে ১৪৪ পার্সেন্ট অতিরিক্ত হারে মাসুল গুনতে হয়। অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি হারে গলা কাটার মতো আদায় করা হচ্ছে এই সারচার্জ। যা এয়ারলাইন্স পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অঞ্জন চৌধুরীর দৃষ্টিতে- এটা কাবুলিওয়ালা নীতির চেয়েও কঠিন।

তেলের দামে তেলেসমাতি ॥ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলে দাম এমনিতে প্রায় দ্বিগুণ বেশি। তার ওপর অভ্যন্তরীণ রুটে উড়োজাহাজের জন্য আরও বেশি খেসারত দিতে হচ্ছে। যেমন হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের পদ্মা ওয়েল ডিপো থেকে যদি কোন উড়োজাহাজ তেল নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে তা হলে এক লিটার তেলের জন্য দাম পরিশোধ করতে হয় ৯১ টাকা। অথচ এই একই উড়োজাহাজ যদি ঢাকা থেকে দেশের বাইরের রুটের জন্য তেল কিনে তাহলে লিটার প্রতি দাম রাখা হয় সাড়ে ৬২টাকা। আবার বিদেশের যে কোন দেশে এই তেল কেনা যায় ৬২ টাকার চেয়েও অনেক কমে। জেট ফুয়েলের দাম নিয়ে এমন তেলেসমাতি কা-ের নজির আর কোথাও নেই। বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো বছরের পর বছর ধরে তেলের দাম নিয়ে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য বার বার দেনদরবার করলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। কেন এমন বৈষম্য তার কোন সদুত্তরও দিতে পারছে না সরকার।

ব্যাংক গ্যারান্টি এত ॥ সাধারণত বিমানসহ বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো পদ্মা ওয়েল ডিপো থেকে তেল কিনে বাকিতে। এটাই আন্তর্জাতিক রীতি। এদেশেও একই কায়দায় তেলের দাম পরিশোধ করা হয়। কিন্তু তার জন্য আলাদা মাসুল দিতে হয়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশীষ রায় চৌধুরী বলেন- এক সপ্তাহে ৬ কোটি টাকার তেল কিনতে হলে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হয় ১৫ কোটি টাকা। কেন এই জুলুম। ৬ কোটি টাকার বিপরীতে বড় জোর ৭ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি চাইতে পারে। কোন্ যু্িক্ততে এখানে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। অথচ এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ রয়েছে যাতে সহনশীল মাত্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি নেয়া। সাবেক জ্বালানি সচিব নিজাম উদ্দিন আমাদের এই অভিযোগ শুনে ব্যাংক গ্যারান্টির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিয়েছিলেন। তাতে আমরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, সেই আদেশ এখন বাস্তবায়ন করছে না শাহজালালের পদ্মা ডিপোর অফিস। এয়ারলাইন্সগুলোর অভিযোগ, এখানকার ডিজিএম মাহবুবুল আলমের কাছে বার বার ধর্ণা দিলেও নানা অজুহাতে তা বাস্তবায়ন করতে টালবাহানা করছে। এর নেপথ্যে কি অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে নাকি অন্য কিছু, তা রহস্যজনক।
এওজি হলে রক্ষা নেই ॥ কোন উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির দরুন অচল হয়ে পড়লে তাকে বলা হয়-এয়ারক্রাফট অন গ্রাউন্ডেড (এওজি)। এ অবস্থায় যদি উড়োজাহাজটিকে উড্ডয়নযোগ্য করতে প্রায়ই স্পেয়ারপার্টস লাগে যা নিকটবর্তী থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর কিংবা আরও দূরের দেশ থেকে জরুরীভাবে আনতে হয়। এত জরুরী যে অনেক সময় চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ে এগুলো আনতে হয়। কারণ, উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড হয়ে যত বসে থাকে তত লস। এমন পরিস্থিতিতে জরুরীভিত্তিতে বিদেশ থেকে যেসব স্পেয়ারপার্টস আনতে হয় তার জন্য মাসুল দিতে হয় মূল ৪ পার্সেন্টের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫৩ পার্সেন্ট। এই মাসুল রহিত করার জন্য এয়ারলাইন্সগুলো বছরেরর পর বছর ধরে দেনদরবার করলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। এ সম্পর্কে অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু বলেন, এওজি হলে তো এলসি খুলে মাল আনা যাবে না। সারা দুনিয়ায় তো এওজির স্পেয়ারপার্টস জরুরী ভিত্তিতেই কিনে থাকে। তার জন্য বিশেষ এইচএস কোড রয়েছে যার শুল্ক মাত্র ৪ পার্সেন্ট। কিন্তু এদেশে এই ৪ পাসের্ন্টের স্েঙ্গ অতিরিক্ত ৫৩ পার্সেন্ট জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো। এমন অযৌক্তিক মাসুলের জন্য এয়ারলাইন্সগুলো বিপুল লোকসানের মুখে।
এরোনটিক্যাল চার্জ অস্বাভাবিক ॥ বোয়িং ৭৩৭ মডেলের একটি উড়োজাহাজের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে ল্যান্ডিং পার্কিং চার্জ হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। এই উড়োজাহাজ যদি ঢাকা থেকে কলকাতা বা অন্যকোন দেশের জন্য উড্ডয়ন করে তাহলে চার্জ নেয়া হয় ৬৪ হাজার টাকা। তার ওপর রয়েছে নেভিগেশন চার্জ আরও ২৪ হাজার। ইউএস বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন- এ্যারোনটিক্যাল চার্জ এত বেশি নেয়ার আর কোন নজির নেই পৃথিবীতে। এভিয়েশন খাতের বিকাশ ঘটাতে হলে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দূর করতে হবে।
কেন এত বেশি এ্যারোনটিক্যাল চার্জ নেয়া হয় জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশন এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেছেন,এটা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের সিদ্ধন্ত। এটা বাড়ানো-কমানোর কোন এখতিয়ার সিভিল এভিয়েশনের নেই। আমরাও চাই এটা কমানো হোক। আশীষ রায় চৌধুরী বলেছেন- এমনিতেই এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে বার্ষিক কোম্পানি ট্যাক্স কাটা হয় ৩৫ পার্সেন্ট। এভিয়েশন খাতের প্রবৃদ্ধির স্বার্থে আমরা এই ট্যাক্স মওকুফ করে অন্যান্য দেশের মতো ট্যাক্স হলিডে প্রথা চালুর জন্য বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছি।
আর্থিক সহযোগিতা নয়, স্বীকৃতি দরকার ॥ এসব বিষয়ে অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোন আর্থিক সাহায্য চাই না। আন্তজার্তিক এভিয়েশন রুলস অনুযায়ী অন্যান্য দেশের এয়ারলাইন্স যেভাবে রাষ্ট্রের আনুকূল্য পায়, যেভাবে শুল্ক সুিবধা পায়; ন্যূনতম সেগুলোই চাই। যেমন এভিয়েশনের যে কোন যন্ত্রাংশ আমদানি করার সময়ে এইচএস কোড অনুযায়ী শুধু শুল্ক পরিশোধ করতে দিলে, তেলের দামে সামঞ্জস্য রক্ষা, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে তেল কেনার সুযোগ, সারচার্জের নামে অযৌক্তিক জরিমানা প্রত্যাহার ও এ্যারোনটিক্যাল চার্জ সহনীয় করে নেয়া হলেই বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে এয়ারলাইন্স বিকশিত হবে। এজন্য আগে আমাদের মাইন্ডসেট ঠিক করতে হবে। অনেকের ধারণা, এটা শুধু বড় লোকের শখের ব্যবসা। এখানে কেন সরকারী এত পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। এই বদ্বমূল ধারণা ও বিশ্বাস পাল্টে ফেলতে হবে। এটা যে একটা শিল্প, এ খাতকে যাতে গার্মেন্টসের অন্যতম মুদ্রা অর্জনকারী হিসেবে বিকশিত করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে, এটাই সরকারকে বুঝতে হবে। মূল কথা বুরোক্র্যাসি থেকে রেহাই দিতে হবে।
অঞ্জন চৌধুরী বলেন, এয়ারলাইন্স খাত মানে শুধু উড়োজাহাজের টিকেট বিক্রি করে ব্যবসা করা নয়; দুনিয়াব্যাপী এ খাতের দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষ পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে বিশ্বের মার্কেট ধরতে পারে। সেজন্য দেশীয় এভিয়েশনকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো গেলে একচেটিয়া এই জনবল রফতানি করা সম্ভব।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। তিনি বিষয়গুলোর একট সুরাহা করার জন্য ইতোমধ্যে ইতিবাচক মনোভাবও প্রকাশ করেছেন। এখন আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে চলতি সপ্তাহে বৈঠক করে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাইব। আশা করি একটা ফয়সালা হতে পারে। অর্থমন্ত্রীকে বোঝানো গেলে এসব জটিলতা কেটে যাবে; যা দেশের এভিয়েশন শিল্পকে একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো যাবে।
তাহলে ভবিষ্যত কী ॥ এসব ভ্রান্তনীতি ও সরকারের চোখ বুজে থাকার মনোভাবকে এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অশনি সংকেত বলে উল্লেখ করে ইউএস বাংলার স্বত্বাধিকারী মোঃআব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন-আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম অনেক বেশি। ভারতে অভ্যন্তরীণ রুটে এয়ারলাইন্সের ল্যান্ডিং পার্র্কি চার্জ মওকুফ থাকলেও এখানে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। স্পেয়ারপার্টসের ওপরও রয়েছে অস্বাভাবিক শুল্ক। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে ব্সেরকারী এয়ারলাইন্স টিকবে কিভাবে? তারপরও বিদেশী এয়ারগুলোর তুলনায় বাংলাদেশী এয়ারলাইন্সের ভাড়া অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে অনেক কম। একটা উদাহরণ দিলেই ধারণা পাওয়া যাবে। যেখানে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের ভাড়া নেয়া হয় বিশ হাজার টাকার নিচে সেখানে স্ঙ্গিাপুর এয়ারওয়েজে ঢাকার ভাড়া ৪০ হাজারেরও ব্িেশ।

Aviation News