যুক্তরাষ্ট্রের ‘উস্কানিতে’ শান্তি প্রচেষ্টা হুমকির মুখে

এই লেখাটি 77 বার পঠিত

নিষেধাজ্ঞার চাপ বহাল রাখা এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে উত্তর কোরিয়া বলেছে, এসব পদক্ষেপের কারণে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করা এবং এ অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি চলার এ সময়ে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র পরিহার না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দিচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, “ওয়াশিংটন বার বার কোরিয়া উপদ্বীপ পারমণবিক অস্ত্র মুক্ত করতে উত্তর কোরিয়ার রাজি হওয়াকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অন্যভাবে চাপ প্রয়োগের ফল বলছে যুক্তি দিচ্ছে। এতে করে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে।”

মুখপাত্র আরো বলেন, “উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র পুরোপুরি পরিহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে না বলে প্রকাশ্যেই মন্তব্য করছে। কোরিয়া উপদ্বীপে কৌশলগত সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার ইস্যু তুলে প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

“উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরতে চলার এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে পিয়ংইয়ংকে উস্কানি দিচ্ছে। তাদের এ কর্মকান্ডকে অনেক কষ্টার্জিত আলোচনার পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার ভয়ঙ্কর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই বলা যেতে পারে না।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং চাপের কারণেই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে বলে ওয়াশিংটনের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে পিয়ংইয়ং বলেছে, উত্তর কোরিয়ার শান্তিপ্রিয় প্রচেষ্টাকে যেন দুর্বলতা মনে করা না হয়।

উত্তর কোরিয়ার শান্তির প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র পিয়ংইয়ংয়ের দুর্বলতা ভেবে নিয়ে একে তাদের ওপর চাপ আর সামরিক হুমকির ফল ধরে নিয়ে ভুল হিসাব করলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য তা সহায়ক হবে না বলেই এক বিবৃতিতে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

এ মাসের শেষ দিকে বা জুনের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল উত্তরের নেতা কিমের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের বৈঠক ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং সম্মেলনের পথ প্রশস্ত করেছে ।

সাড়ে ছয় দশকের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমের ‘পিস হাউজ’ এ ওই বৈঠকে দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করে এ বছরই একটি শান্তি চুক্তিতে সই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন কিম-মুন।

কিম-মুন বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়া মে মাসের মধ্যে তাদের পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি’র কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।

দুই কোরিয়া সীমান্ত থেকে ‘লাউডস্পিকার’ সরিয়ে নেওয়ার পাশপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে উত্তর কোরিয়া তাদের ‘টাইম জোন’ পর্যন্ত পাল্টাছে।

কিন্তু দুই কোরিয়ার ঐতিহাসিক ওই বৈঠকের পরদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য উপায়ে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলেছিলেন। পরমাণু প্রকল্প নিয়ে উত্তর কোরিয়ার নমনীয় মনভাব এই চাপের ফল বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

Aviation News