বিমানবন্দরে স্বর্ণপাচারে পারিবারিক সিন্ডিকেট

এই লেখাটি 158 বার পঠিত

স্বর্ণ চোরাচালানে পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন খোদ সিভিল অ্যাভিয়েশনের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। নিজের সন্তান ও ভাইকে যুক্ত করে গত ৬ বছর ধরে মণকে মণ স্বর্ণপাচার করে আসছিলেন ওই কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের হাতে সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণসহ দুই গডফাদার আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যে র্যাব গ্রেপ্তার করে সিভিল অ্যাভিয়েশনের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে। মূলত তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে আসে স্বর্ণ চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। এ ছাড়া চট্টগ্রামের আরেকজন কর্মীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে সংস্থাটি। আরও বেশ কয়েকজন সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বিমানকর্মীকে র্যাব নজরে রেখেছে র্যাব।
গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য কাজী মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগী মীর জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাদের কাছ থেকে ১৩৫টি স্বর্ণ বার (মোট সাড়ে ১৩ কেজি) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করতে চায় র্যাব।
র্যাব জানায়, মাহবুবুর রহমান সিঙ্গাপুরের একটি দোকান থেকে গত ৫-৬ বছর ধরে স্বর্ণ কিনে বাংলাদেশে পাচার করে আসছিলেন। সিঙ্গাপুরের মেগাশপ মোস্তফা মার্টের পাশের ওই স্বর্ণের দোকানের মালিক ভারতীয় নাগরিক। সিঙ্গাপুর থেকে স্বর্ণ কিনে দেশটির বিমানবন্দর পার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তাই জটিলতা এড়াতে দুবাইয়ের পরিবর্তে সিঙ্গাপুরকেই বেছে নেন মাহবুব। মাহবুবুর রহমান স্বর্ণ চোরাচালানের টাকায় ঢাকায় আলিশান ফ্ল্যাটসহ বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে গেছেন। অভিযানের সময় র্যাবের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষের প্রলোভনও দেন মাহবুব। কিন্তু র্যাব ছাড় দেয়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহবুবুর রহমান বিমান থেকে নেমে বিমানবন্দরের বাথরুমে
স্বর্ণ রেখে বেরিয়ে যেতেন। তাকে দেখে কেউ সন্দেহ করতে পারতেন না। পরে সেই স্বর্ণ বিমানবন্দরের বাইরে পৌঁছে দিতেন সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগের কিছু অসাধু কর্মী। গত ৬ বছরে সিভিল অ্যাভিয়েশনের বেশ কিছু কর্মীর সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারই ভিত্তিতে সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা অপারেটর তৌহিদুর রহমান, নিরাপত্তাকর্মী মাহবুবুল আলমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই দুজন বাথরুম থেকে স্বর্ণ এনে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদে পৌঁছে দিতেন। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরেক কর্মীকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে র্যাব। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তার নাম জানাতে চাইছে না। গ্রেপ্তারকৃত দুই সিভিল অ্যাভিয়েশনকর্মীসহ চারজনকে রিমান্ডের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে নিরাপত্তাকর্মী মাহবুবুল আলম প্রায় দুই বছর বরখাস্ত হন। পরে তার বোনের তদবিরে চাকরি ফিরে পান।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সেলিনা বেগম। তার স্বামী আবুল কালামও সিভিল অ্যাভিয়েশনের সাবেক কর্মচারী। এ দম্পতির ছেলে তৌহিদ। গ্রেপ্তার হওয়া সিভিল অ্যাভিয়েশনের আরেক কর্মী মাহবুবুল আলম হলেন সেলিনা বেগমের ভাই। তারা মামা-ভাগ্নে সরকারি চাকরির আড়ালে স্বর্ণ ও মুদ্রা চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ফ্লাইটে আসা স্বর্ণ বিমানবন্দরের বাইরে নিয়ে বের করে দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। স্বর্ণ চোরাচালান করে রাতারাতি বনে যান বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক।
র্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে সিভিল অ্যাভিয়েশের দুই কর্মচারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা যতই শক্তিশালী হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সেলিনা বেগম বলেন, শত্রুতা করে কেউ তার ছেলে ও ভাইকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। সেই শত্রু কারা জানতে চাইলে তিনি তাদের নাম জানেন না বলে জানান।
সূত্র জানায়, আটককৃত স্বর্ণের মালিক মাহবুবুর রহমান মূলত ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছিলেন। সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও গোয়েন্দা সংস্থায় তার সহযোগী রয়েছে।

Aviation News